নিঠারির ‘নরখাদকের’ চরম পরিণতি, হরিদ্বারে ‘আত্মঘাতী’ সুরেন্দ্র কোলি
শুক্রবার উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে একটি চায়ের দোকান থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ
Truth of Bengal: নিঠারি হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলি থেকে বেকসুর খালাস পাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই মৃত অবস্থায় পাওয়া গেল সুরেন্দ্র কোলিকে। শুক্রবার উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে একটি চায়ের দোকান থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। তবে কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। কী কারণে মৃত্যু, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ২০০৫-২০০৬ সালের নয়ডার নিঠারি কাণ্ড গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ব্যবসায়ী মণিন্দর সিং পান্ধেরের বাড়ির পিছনের নর্দমা ও আশপাশ থেকে একাধিক শিশু ও মহিলার দেহাবশেষ উদ্ধারের পর তদন্তে পান্ধের এবং তাঁর পরিচারক সুরেন্দ্র কোলির নাম উঠে আসে। একাধিক অপহরণ, যৌন নির্যাতন ও খুনের মামলায় অভিযুক্ত করা হয় কোলিকে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মামলায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হয়েছিল।
তবে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। নিঠারি সংক্রান্ত ১৩টি মামলার মধ্যে ১২টিতে আগেই খালাস পেয়েছিলেন কোলি। শেষ যে মামলায় তাঁর দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় বহাল ছিল, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর সেই মামলাতেও কিউরেটিভ পিটিশন মঞ্জুর করে তাঁকে খালাস দেয় সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত একই ধরনের প্রমাণের ভিত্তিতে একদিকে ১২টি মামলায় খালাস এবং অন্যদিকে একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত থাকা ন্যায়সঙ্গত নয় বলে মন্তব্য করে। পাশাপাশি তদন্ত ও প্রমাণ সংগ্রহের একাধিক ত্রুটির কথাও রায়ে উঠে আসে। তার পর জেল থেকে মুক্ত হয়ে হরিদ্বারে চলে যান কোলি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানে একটি চায়ের দোকান চালাচ্ছিলেন তিনি। শুক্রবার সকালে ভূপতওয়ালা এলাকায় সেই দোকানের কাছেই তাঁর দেহ পাওয়া যায়। ফরেনসিক দলও ঘটনাস্থল পরীক্ষা করেছে। মৃত্যুর পিছনে পারিবারিক কোনও সমস্যা ছিল কি না, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
নিঠারি মামলায় কোলি ও পান্ধেরের পরপর খালাস ঘিরে আগেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন নিহত ও নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের সদস্যদের একাংশ। তাঁদের প্রশ্ন ছিল, এত বছর তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার পরও যদি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করা না যায়, তবে প্রকৃত অপরাধী কারা—তার উত্তর তাঁরা কবে পাবেন? সুপ্রিম কোর্টও শেষ মামলায় কোলিকে খালাস দেওয়ার সময় বলেছিল, দীর্ঘ তদন্তের পরেও প্রকৃত অপরাধীর পরিচয় আইনসম্মত মানদণ্ডে প্রতিষ্ঠা করা যায়নি, যা গভীর উদ্বেগের। প্রায় দু’দশক ধরে দেশের অন্যতম আলোচিত অপরাধ মামলার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সুরেন্দ্র কোলির মৃত্যুর পর এবার তার কারণ জানতে তদন্তে নেমেছে হরিদ্বার পুলিশ।


