রাজ্যের খবর

রাজ্যে দুই বড় মামলায় সাজা, নদীয়ায় আমৃত্যু কারাদণ্ড ও মুর্শিদাবাদে যাবজ্জীবনের নির্দেশ

অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা সমরেন্দ্র গয়ালির পাঁচ বছরের জেল হয়েছে৷ সোমবার ৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল৷

Truth Of Bengal: একই দিনে পৃথক দুটি বড় ঘটনার সাজা ঘোষণা হল রাজ্যে। নদিয়ার হাঁসখালিতে নাবালিকা গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তৃণমূল নেতার ছেলে-সহ তিনজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা দিল আদালত। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা সমরেন্দ্র গয়ালির পাঁচ বছরের জেল হয়েছে৷ সোমবার ৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল৷ তারপর মঙ্গলবার সকলের সাজা ঘোষণা করল রানাঘাট মহকুমা আদালত। এই মামলায় মূল দোষী ব্রজ গয়ালি, রঞ্জিত মল্লিক, প্রভাকর পোদ্দারকে গণধর্ষণ মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এরই সঙ্গে আরও বিভিন্ন ধারায় জরিমানাও করা হয়েছে দোষী তিনজনকে৷ বাকি তিন দোষী সমরেন্দ্র গয়ালি, দীপ্ত গয়ালি এবং পীযূষ ভক্তকে ৫০৬ ধারায় পাঁচ বছর ও ২০১ ধারায় তিন বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে৷

সুরজিৎ রায় ও আকাশ বারুইয়ের বয়স কম হওয়ার কারণে তাদের নিজস্ব বেলবন্ডে এক বছরের জন্য ছাড়া হয়েছে। এই এক বছরে তাদের আচার-আচরণ ভাল থাকলে তারা মুক্তি পাবে৷ না-হলে এই রায় আবার বাতিল হতে পারে৷ অন্য দোষী অংশুমান বাগচীকে ২০১ ধারায় তিন বছর ও ১০২ (বি) ধারায় তিন বছর সাজা দেওয়া হয়েছে৷ প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ৪ এপ্রিল নদিয়ার হাঁসখালি থানা এলাকায় এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ওঠে৷ মেয়েটির পরিবার অভিযোগ করে, তৃণমূল গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়িতে জন্মদিনের পার্টির নামে ১৪ বছরের কিশোরীকে ডেকে জোর করে মদ্যপান করিয়ে গণধর্ষণ করা হয়।

প্রবল রক্তক্ষরণের জেরে পরে তার মৃত্যু হয়৷ মৃত্যুর পর কোনও চিকিৎসকের শংসাপত্র ছাড়াই দ্রুত গ্রামের এক শ্মশানে নাবালিকাকে দাহ করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। সেই মামলায় অবশেষে সাজা ঘোষণা হল। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তুলনামূলক কম সময়ের মধ্যে সাজা ঘশোনা হয়েছে পুলিশের তৎপরতার জন্য।

অন্যদিকে, আট মাসের মধ্যে সাজা ঘোষণা হল মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জের জোড়া খুনের ঘটনায়। হরগোবিন্দ দাস ও তাঁর পুত্র চন্দন দাস খুনের ঘটনায় ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনালেন জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতের বিচারক। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি মৃতের পরিবারকে ১৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেন বিচারক। যদিও মৃতের পরিবার অভিযুক্তদের ফাঁসির সাজা দাবি করেছে।

উল্লেখ্য, ওয়াকফ নিয়ে আন্দোলনের জেরে গণ্ডগোলে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সামসেরগঞ্জ। দফায় দফায় অশান্তি ছড়ায় এলাকাজুড়ে। সেই আবহের মধ্যে ১২ এপ্রিল জাফরাবাদ গ্রামে হরগোবিন্দ দাস ও তাঁর ছেলে চন্দন দাসকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। দুষ্কৃতীরা বাড়িতে ঢুকে লুটপাট চালিয়ে বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে খুন করে। সোমবার ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত৷ মঙ্গলবার সাজা ঘোষণা করা হল৷ এদিন জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে রায়দান ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছিল।

সামসেরগঞ্জের এই ঘটনার তদন্তে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়। সিট তদন্তে নেমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের একে একে গ্রেফতার করে এবং আদালতে চার্জশিট পেশ করে। ধৃতদের মধ্যে ছিল দিলদার নদাব, আসমাউল নদাব ওরফে কালু, এনজামুল হক ওরফে বাবলু, জিয়াউল হক, ফেকারুল সেখ ওরফে মহক, আজফারুল সেখ ওরফে বিলাই, মনিরুল সেখ ওরফে মনি, একবাল সেখ, নুরুল ইসলাম, সাবা করিম, হযরত সেখ, আকবর আলি এবং ইউসুফ সেখ। সবাই গ্রেফতার হলে আদালতে চার্জশিট দেয় সিট। উভয়পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে আদালত ১৩ জন অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। মঙ্গলবার রায় ঘোষণা হয়।

Related Articles