সৎ মেয়েকে ধর্ষণ! গুণধর বাবাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড আদালতের
ঘটনা জানার পর মা তার মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায়, মায়ের অনুপস্থিতিতে তার সৎ বাবা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
বিশ্বদীপ নন্দী, বালুরঘাট: নিজের সৎ বাবার লালসার শিকার হতে হয় দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের এক নাবালিকাকে। নাবালিকা কন্যাকে ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে ২০ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা আদালতের পকসো আদালত। জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুন বালুরঘাট থানায় এক মহিলা তার দ্বিতীয় পক্ষের স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, প্রথম পক্ষের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি তার নাবালিকা কন্যাকে নিয়ে দ্বিতীয় পক্ষের স্বামীর সঙ্গে বালুরঘাটে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন এবং গৃহ পরিচারিকার কাজ করতেন। তিনি কাজ থেকে ফেরার পর নাবালিকা কন্যাটি পেটে ব্যথার কথা জানায়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে বালুরঘাট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তাররা জানান মেয়েটি চার মাসের গর্ভবতী।
ঘটনা জানার পর মা তার মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায়, মায়ের অনুপস্থিতিতে তার সৎ বাবা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এরপরই ওই মহিলা বালুরঘাট থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পকসো আইনের ৬ ধারায় মামলা দায়ের হয়।
মামলা চলাকালীন মেয়েটির গর্ভপাত হয় এবং ভ্রূণটি সংরক্ষিত করে রাখা হয়। পরবর্তীকালে ডিএনএ পরীক্ষায় ভ্রূণের সাথে অভিযুক্ত ব্যক্তির ডিএনএ-এর মিল পাওয়া যায়, যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা আদালতের পকসো আদালতের বিচারক শরণ্যা সেনপ্রসাদের এজলাসে এই মামলার শুনানি চলছিল। গত শনিবার আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে। মঙ্গলবার দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক রায় ঘোষণা করেন। আদালতের সরকারি আইনজীবী ঋতব্রত চক্রবর্তী জানান, যেহেতু অভিযুক্তের বয়স কম, তাই আদালত তাকে ২০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাস সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, আদালত নিগৃহীতা নাবালিকার পড়াশোনা ও অন্যান্য বিষয়ের জন্য তাকে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে। আদালতের এই রায় সমাজে এমন জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে একটি কড়া বার্তা দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহালমহল।






