রাজ্যের খবর

জলের ওপরেই হবে ইউএসজি আর এক্স-রে! সুন্দরবনের দুর্গম দ্বীপে রোগীদের বাঁচাবে ‘ফ্লোটিং অ্যাম্বুল্যান্স’

রোগীকে স্পর্শ করলেই চলে আসবে ফ্লোটিং মেডিক্যাল ইউনিট! স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শুরু হচ্ছে মেগা পরিষেবা!

Truth of Bengal: নদী ও খাঁড়ি ঘেরা সুন্দরবনের জলঘেরা দুর্গম দ্বীপগুলির বাসিন্দাদের কাছে এতদিন উন্নত চিকিৎসা পাওয়া ছিল এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। জরুরি পরিস্থিতিতে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো না পারায় অনেক ক্ষেত্রে মিলত না সঠিক পরিষেবা। তবে এবার সুন্দরবনবাসীর সেই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ মেটাতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। জলপথেই মিলবে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি থেকে শুরু করে যাবতীয় রক্ত পরীক্ষার সুবিধা। নদী পরিবেষ্টিত দুর্ভেদ্য দ্বীপগুলির রোগীদের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসা পৌঁছে দিতে চালু করা হচ্ছে ‘ফ্লোটিং’ বা ভাসমান অ্যাম্বুল্যান্স ও স্বাস্থ্য কেন্দ্র। ইতিমধ্যেই নতুন এই পরিষেবা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যেই ফেরিঘাটে প্রস্তুত থাকা দুটি বিশেষ ফ্লোটিং মেডিক্যাল ইউনিট পুরোদমে কাজ শুরু করবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, প্রাথমিক দুটি ইউনিটের পাশাপাশি দ্রুত আরও ৬টি ফ্লোটিং মেডিক্যাল ইউনিট প্রস্তুত করার কাজ জোরকদমে এগোচ্ছে। এই ভাসমান হাসপাতাল বা ইউনিটগুলিতে থাকবেন অভিজ্ঞ নার্স ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। সবচেয়ে বড় বিষয়, এখানে নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের বদলি করা হবে না, ফলে স্থানীয় ডাক্তারবাবুরাই সার্বক্ষণিক পরিষেবা দিতে পারবেন। প্রতিটি ইউনিটে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি, পোর্টেবল এক্স-রে মেশিন, সব ধরনের রক্ত পরীক্ষার পরিকাঠামো, জরুরি ওষুধপত্র এবং হাড় ভাঙার চিকিৎসার জন্য প্লাস্টার করার সুব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

পুরো সুন্দরবনের স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থাকে একটি আধুনিক ডিজিটাল ও যোগাযোগ নেটওয়ার্কের অধীনে আনতে চলেছে স্বাস্থ্য দফতর। এই ব্যবস্থার প্রথম ধাপে কাজ করবে ৬টি দ্রুতগতির স্পিডবোট অ্যাম্বুল্যান্স, যেগুলির বরাত ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়ে গিয়েছে। ঘণ্টায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার গতিতে চলা এই স্পিডবোটগুলি সংকেত পাওয়া মাত্রই পৌঁছে যাবে সুন্দরবনের গভীরের যেকোনো অসুস্থ মানুষের কাছে।

স্পিডবোটে করে রোগীকে তুলে নিয়ে আসা হবে নিকটবর্তী ফ্লোটিং মেডিক্যাল ইউনিটে। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষা ও চিকিৎসার পর যদি আরও উন্নত পরিষেবার প্রয়োজন হয়, তবে সেখান থেকে রোগীকে দ্রুত স্থানান্তর করা হবে বিশেষ ‘মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিটে’। এই মোবাইল ইউনিটগুলিতে থাকছে সেমি-অটো অ্যানালাইজার, সেল কাউন্টার, ইসিজি সহ অত্যাধুনিক পোর্টেবল সরঞ্জাম। চিকিৎসা ক্ষেত্রে জলপথের এই আধুনিক সমন্বয় সুন্দরবনের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

Related Articles