রাজ্যের খবর

হাজার কোটির ‘ডিল’ বিতর্ক: তৃণমূলের বিরুদ্ধে মানহানির মামলার হুঁশিয়ারি হুমায়ুন কবীরের

ভিডিয়োটিকে ‘এআই’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারসাজি বলে দাবি করেছেন হুমায়ুন

কল্যান বিশ্বাস, মুর্শিদাবাদ: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আম জনতা পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের একটি কথিত ভিডিয়ো ঘিরে। বিজেপির সঙ্গে ‘১০০০ কোটি টাকার চুক্তির’ যে অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেস তুলেছে, তাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ‘এআই’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারসাজি বলে দাবি করেছেন হুমায়ুন। শুধু তাই নয়, তাঁকে কালিমালিপ্ত করার অভিযোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি ছিল, বিপুল অর্থের বিনিময়ে রাজ্যে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করে বিজেপিকে সুবিধা করে দেওয়ার ছক কষেছেন হুমায়ুন। এই অভিযোগ নস্যাৎ করে হুমায়ুন কবীর পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে জানান, ২০১৮ সালে স্বল্প সময়ের জন্য বিজেপিতে গেলেও ২০১৯ সালের পর কোনও বিজেপি নেতার সঙ্গে তাঁর দেখা করার প্রমাণ নেই। তাঁর দাবি, তৃণমূল তাঁকে ভয় পেয়েছে বলেই অলিগলিতে প্রচার চালাতে হচ্ছে। এদিন অভিনেতা-সাংসদ দেবকেও নিশানা করে তিনি বলেন, ঘাটালে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা সাংসদকে মুর্শিদাবাদে এনে ‘নাটক’ করানো হচ্ছে।

মানহানির মামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে হুমায়ুন বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে ফিরহাদ হাকিম বা কুণাল ঘোষ— কাউকেই ছাড়ব না। তাঁদের প্রমাণ করতে হবে আমি কবে কার সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছি।” মুসলিম ভোটারদের কাছে তৃণমূলের এই ‘মিথ্যাচার’ রুখে দেওয়ার আবেদনও জানান তিনি।

এদিকে এই বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী। তিনি কিছুটা কৌশলী অবস্থান নিয়ে বলেন, “ভোটের মুখে এমন ডিল হতেও পারে, তবে আমার সঠিক জানা নেই। তবে সত্য ঠিকই সামনে আসবে।” বিধানসভা ভোটের আগে মুর্শিদাবাদের মাটিতে এই টাকার ‘ডিল’ বিতর্ক যে শাসক-বিরোধী সংঘাতকে আরও তীব্র করল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই রাজনৈতিক মহলের।

Related Articles