মাঠ দখল করলে রেহাই নেই! পানিহাটিতে দলীয় নেতাদের চরম হুঁশিয়ারি মমতার
ভোট চাইতে এসে এদিন মেজাজ হারালেন নেত্রী; নিজের দলেরই কাউন্সিলর ও চেয়ারম্যানদের দিলেন চরম হুঁশিয়ারি।
Truth of Bengal: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি এখন আক্ষরিক অর্থেই ‘হটস্পট’। আর জি কর কাণ্ডের নিগৃহীতা চিকিৎসকের মা গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী হওয়ায় এই কেন্দ্রটি এখন গোটা দেশের নজরে। এই কঠিন লড়াইয়ে তৃণমূলের বাজি বিদায়ী বিধায়ক নির্মল ঘোষের পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষ। বৃহস্পতিবার পানিহাটির উষুমপুর বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গনে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে জনসভা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ভোট চাইতে এসে এদিন মেজাজ হারালেন নেত্রী; নিজের দলেরই কাউন্সিলর ও চেয়ারম্যানদের দিলেন চরম হুঁশিয়ারি।
পানিহাটির মাটিতে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দলের নাম ভাঙিয়ে এলাকা দখল বা বেআইনি নির্মাণ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “কাউন্সিলর, চেয়ারম্যানরা শুনে রাখুন। তৃণমূল দলটা করতে গেলে সবুজ ধ্বংস করা চলবে না, মাঠ দখল করা চলবে না। বেআইনি নির্মাণ চলবে না। যদি ভেবে থাকেন আমি কলকাতায় থাকি বলে পানিহাটিতে কী হচ্ছে জানব না, সেটা ভুল। সবার সব খবর আমি রাখি।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার নেপথ্যে রয়েছে বছরখানেক আগের সোদপুরের অমরাবতী মাঠ নিয়ে বিতর্ক। এলাকার ‘ফুসফুস’ হিসেবে পরিচিত এই মাঠের একাংশ দখলের চেষ্টা করেছিল খোদ তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা। সেই সময় বিষয়টি কানে যেতেই তড়িঘড়ি হস্তক্ষেপ করেন মমতা। শুধু কাজ বন্ধ করাই নয়, রাতারাতি পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যানও বদলে দিয়েছিল পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। সেই ঘটনায় জনমানসে দলের যে ভাবমূর্তি ধাক্কা খেয়েছিল, ভোটপ্রচারে এসে গোড়াতেই তা মেরামত করতে চাইলেন নেত্রী।
ভোটের ময়দানে এবার তীর্থঙ্কর ঘোষের প্রধান লড়াই আবেগের সঙ্গে। একদিকে যখন আর জি কর কাণ্ডের বিচার চেয়ে বিজেপি সুর চড়াচ্ছে, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিলেন ‘সবুজ ধ্বংস’ করে উন্নয়ন তিনি চান না। তিনি সাফ বলেন, “মাঠ বা ফাঁকা জায়গা দখল করে যখন-তখন নির্মাণকাজ করব- এসব চলবে না। আমার নজরে এলেই আমি তা বন্ধ করে দেব। তৃণমূল করতে হলে সবুজ বাঁচাতে হবে।” পানিহাটির ভোট বৈতরণী পার হতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘ক্লিন ইমেজ’ বার্তা কতটা কাজে দেয়, এখন সেটাই দেখার।






