সোশ্যাল মিডিয়ায় বাম বনাম তৃণমূলের বাকযুদ্ধ, দুর্নীতি চেনাতে তৎপর বামপন্থীরা
ব্যঞ্জনবর্ণের প্রতিটি অক্ষর ধরে ধরে প্রচার শুরু করেছে সিপিএম
Truth Of Bengal: আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘বর্ণপরিচয়’-এর মেলবন্ধন ঘটিয়ে ভোট প্রচারে অভিনবত্ব আনল বামেরা। রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির পাহাড়কে সাধারণ মানুষের কাছে সহজবোধ্য করতে ব্যঞ্জনবর্ণের প্রতিটি অক্ষর ধরে ধরে প্রচার শুরু করেছে সিপিএম। ‘ক’ থেকে ‘চন্দ্রবিন্দু’—ব্যঞ্জনবর্ণের এই দীর্ঘ তালিকায় তৃণমূল জমানার বিভিন্ন কেলেঙ্কারিকে সাজিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে আলিমুদ্দিন।
বামেদের এই ডিজিটাল প্রচারে ‘ক’-এ যেমন উঠে এসেছে ‘কয়লা চুরি’ ও ‘কাটমানি’, তেমনই ‘খ’-এ রাখা হয়েছে ‘খাদ্য বা রেশন দুর্নীতি’। একইভাবে ‘গ’-এ ‘গোরু চুরি’ এবং ‘চ’-এ ‘চাকরি চুরি’র মতো গুরুতর অভিযোগগুলোকে তুলে ধরা হয়েছে। পুরনো কাগজের আদলে তৈরি এই পোস্টগুলিতে শৈশবের পড়া বর্ণমালার ঢঙেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় দুর্নীতির খতিয়ান সাজিয়েছে বামপন্থী ছাত্র-যুব ও কর্মীরা।
এই অভিনব প্রচার কৌশল প্রসঙ্গে সিপিএমের কলকাতা জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কৌস্তুভ চট্টোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূলের দুর্নীতির বহর এতটাই যে তা বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণের প্রায় সবকটি অক্ষরকে স্পর্শ করে ফেলেছে। অথচ বিজেপির সঙ্গে গোপন আঁতাঁতের কারণে একজন অভিযুক্তেরও শাস্তি হচ্ছে না। সেই কারণেই সাধারণ ভোটারদের বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে বিষয়টি সহজভাবে বোঝাতে বর্ণমালাকে হাতিয়ার করা হয়েছে।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বামেদের এই প্রচেষ্টাকে কটাক্ষ করে জানিয়েছেন, মানুষের দুয়ারে পৌঁছতে না পেরে সিপিএম এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে। তাঁর দাবি, যারা একসময় রাজ্যে কম্পিউটার আসার বিরোধিতা করেছিল, তাদের মুখে এই ডিজিটাল প্রচার মানায় না। শাসকদলের মতে, বামেদের জমানার দুর্নীতির তালিকা তৈরি করতে গেলে কোনো শব্দকোষেই কুলাবে না। ভোটের লড়াইয়ে যখন রাজপথের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াও বড় যুদ্ধক্ষেত্র, তখন বামেদের এই ‘দুর্নীতির বর্ণপরিচয়’ ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে, তা সময় বলবে।






