“পুজোর আনন্দ পণ্ড করতে চাইছে অনেকে!”, লালবাগে মণ্ডপ উদ্বোধনে গিয়ে চরম সতর্কবার্তা শুভেন্দুর
স্পর্শকাতর মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়ে বড় হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর! পুলিশ ও পুজো উদ্যোক্তাদের কী নির্দেশ দিলেন শুভেন্দু?
Truth of Bengal: দুর্গাপুজোর আনন্দ যেন কোনওভাবেই মলিন না হয়, সে জন্য আগেভাগেই পুলিশ প্রশাসন ও পুজো উদ্যোক্তাদের চরম সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার মুর্শিদাবাদের লালবাগে বুধাসপাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসবের বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, উৎসবের আবহে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চক্রান্ত রুখতে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষত ‘স্পর্শকাতর’ হিসেবে পরিচিত মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।
উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি জেলার দু’টি পুজো মণ্ডপে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা বা দুর্ঘটনা ঘটেছিল, যার তদন্ত বর্তমানে চলছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি সতর্ক করে বলেন, “অনেকে চায় দুর্গোৎসবের এই স্বাভাবিক আনন্দ নষ্ট করতে। আবার অসাবধানতায় দুর্ঘটনাকবলিত পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। তাই আগে থেকেই পুলিশ এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের বাড়তি নজরদারি চালাতে হবে।”
রাজ্যে সনাতনী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বজায় রাখার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে শুভেন্দু তুলে ধরেন রাজ্য সরকারের একাধিক পরিসংখ্যান। তিনি বলেন, “পরিবর্তনের সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যে নতুন ১২ হাজার পুজোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে ৪৫ হাজার পুজো হলেও এবার মোট ৫৮ হাজার পুজোকে সরকারি অনুদান ও সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। বিদ্যুৎ ফ্রি করার পাশাপাশি সমস্ত লাইসেন্সও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। একা মুর্শিদাবাদ জেলাতেই এবার ৮০০-র বেশি নতুন পুজো অনুমোদন পেয়েছে।”
উৎসবের মরশুমে মুর্শিদাবাদবাসীর জন্য একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক ‘উপহার’-এর কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, জেলার বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য খুব শীঘ্রই কর্মসংস্থানের বন্দোবস্ত করা হবে। পাশাপাশি, জেলার দীর্ঘদিনের সমস্যা গঙ্গাভাঙন প্রতিরোধে আগামী ২৭ অক্টোবর কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। এ ছাড়া লালবাগের একটি ঐতিহাসিক ঝিল সংস্কার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বক্তব্যের শেষলগ্নে জেলা থেকে বাল্যবিবাহ সম্পূর্ণ নির্মূল করার কড়া বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি ‘নেশামুক্ত পশ্চিমবঙ্গ’ ও ‘নেশামুক্ত মুর্শিদাবাদ’ গড়ার শপথ নেন মুখ্যমন্ত্রী।






