রাজ্যের খবর

কচুরিপানার মধ্যে লুকিয়ে বাংলাদেশী পাচারকারী! উদ্ধার ৩ কোটির সোনা, গ্রেফতার ১

সূত্রের খবর, বিওপি টুঙ্গির বিএসএফ জওয়ানরা তথ্য পায় যে কিছু বাংলাদেশি চোরাকারবারী সোনা নিয়ে সীমান্ত পার করার পরিকল্পনা করছে।

মাধব দেবনাথ, নদিয়া: ফের বিএসএফ-এর বড় সাফল্য। কচুরিপানার আড়ালে লুকিয়ে থাকা পাচারকারীকে হাতেনাতে ধরল বিএসএফ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে, বিএসএফ দক্ষিণ বঙ্গ সীমান্তের ৩২তম ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের বিওপি টুঙ্গি এলাকায় ওই বাংলাদেশি পাচারকারীকে আটক করা হয়। সোনার বিস্কুট পাচার করার পরিকল্পনা ভেস্তে দেয় ভারতীয় সেনা। বাজেয়াপ্ত করা সোনার বিস্কুটের মোট ওজন ২৩৫৪.৭৩ গ্রাম। যার মূল্য ৩,০৫,৯৯,৭১৬/- টাকা।

সূত্রের খবর, বিওপি টুঙ্গির বিএসএফ জওয়ানরা তথ্য পায় যে কিছু বাংলাদেশি চোরাকারবারী সোনা নিয়ে সীমান্ত পার করার পরিকল্পনা করছে। তাৎক্ষণিকভাবে তৎপর হয় বিএসএফ, পোস্টে থাকা সমস্ত বিএসএফ সদস্যদের উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয় এবং সম্ভাব্য সকল পথে অতর্কিত আক্রমণ চালানো হয়। তারপরেই দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে একটি জলাশয়ের মধ্য দিয়ে ভারতের দিকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়, যারা জল কচুরিপানার নীচে লুকিয়ে ছিল।

সেনা জওয়ানরা চোরাকারবারিদের চ্যালেঞ্জ করে এবং তাদের ঘিরে ফেলার চেষ্টা করে। অভিযানে একজন চোরাকারবারী হাতেনাতে ধরা পড়ে, অন্যজন অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

ঘটনার পরপরই আশেপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হলে বেশ কয়েকটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। পরীক্ষা করে দেখা যায় ২০টি সোনার বিস্কুট পাওয়া যায়। বিএসএফ বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে সোনার বিস্কুট বাজেয়াপ্ত করে।

ধৃত চোরাকারবারীকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিওপি টুঙ্গিতে আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত চোরাকারবাড়ি স্বীকার করে নেয়, সে বাংলাদেশের বাসিন্দা এবং কিছুদিন ধরে অবৈধ আন্তঃসীমান্ত কার্যকলাপে জড়িত ছিল। সে আর্থিক ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে সীমান্তের ওপারে অন্য একজনের কাছে সোনা পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সফল হওয়ার আগেই বিএসএফ তাকে ধরে ফেলে। ধৃত চোরাকারবারীর কাছ থেকে সোনা সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে আরও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।

এই অভিযানের প্রশংসা করে বিএসএফ দক্ষিণ বঙ্গ সীমান্তের জনসংযোগ কর্মকর্তা দের দাবি, চোরাচালানের মতো অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধে বিএসএফ সদস্যরা সম্পূর্ণরূপে সক্ষম এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের কাছে সোনা চোরাচালান সম্পর্কিত যেকোনও তথ্য অবিলম্বে সীমা সাথী হেল্পলাইন নম্বর ১৪৪১৯ অথবা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ৯৯০৩৪৭২২২৭, বার্তা বা ভয়েস নোটের মাধ্যমে বিএসএফের সাথে শেয়ার করার জন্য আবেদন করা হয়েছে। বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের জন্য উপযুক্ত পুরষ্কার দেওয়া হবে এবং তথ্যদাতার পরিচয় কঠোরভাবে গোপন রাখা হবে।

Related Articles