৫২ বছরের গিটার সাধনা, তবু মেলেনি স্বীকৃতি! বালুরঘাটের শিল্পী বিশ্বনাথের আক্ষেপ
বিশ্বনাথবাবুর সঙ্গীতজীবনের শুরু কলকাতায়
বিশ্বদীপ নন্দী, বালুরঘাট: দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটের প্রাচ্যভারতীর বাসিন্দা বিশিষ্ট গিটার শিল্পী বিশ্বনাথ সরকার। বয়স এখন ৭৪। জীবনের দীর্ঘ ৫২ বছর গিটারের সাধনায় কাটিয়েছেন তিনি। অথচ এত বছরের নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও মঞ্চসফলতার পরেও রাজ্য বা কেন্দ্রীয় স্তরে কোনও সরকারি স্বীকৃতি আজও জোটেনি তাঁর কপালে। সেই আক্ষেপ নিয়েই এখনও সুরের সাধনায় ডুবে রয়েছেন প্রবীণ শিল্পী।বিশ্বনাথবাবুর সঙ্গীতজীবনের শুরু কলকাতায়।
প্রথমে দেশের স্বনামধন্য গীটার শিল্পী পণ্ডিত বরুণ পালের কাছে টানা নয় বছর তালিম নেন তিনি।পরে গড়িয়ার সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে আরও নয় বছর গীটার শিক্ষা গ্রহণ করেন। এরপর আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সরোদশিল্পী ওস্তাদ বাহাদুর খাঁয়ের সান্নিধ্যে দীর্ঘ দশ বছর কাটান। তাঁর মৃত্যুর পর ওস্তাদের পুত্র সুরমণি বিদ্যুৎ খাঁয়ের কাছেও চার বছর শিক্ষা নেন বিশ্বনাথবাবু। সব মিলিয়ে তেত্রিশ বছর গুরুশিষ্য পরম্পরায় নিজেকে গড়ে তুলেছেন তিনি। শুধু শিক্ষালাভেই থেমে থাকেননি।আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রে প্রায় আট বছর এবং শিলিগুড়ি বেতার কেন্দ্রে পনেরো বছর নিয়মিত গীটার পরিবেশন করেছেন তিনি।
কলকাতার দমদম নাগেরবাজার টাউন হলে সুরমণি বিদ্যুৎ খাঁয়ের সঙ্গে যুগলবন্দিতেও বাজিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এছাড়া বালুরঘাট, গঙ্গারামপুর, চাঁচল, মালদা, কিষাণগঞ্জ-সহ বিভিন্ন জায়গায় বহু অনুষ্ঠানে তাঁর গীটারের সুর মুগ্ধ করেছে শ্রোতাদের।তবু এত দীর্ঘ পথচলার শেষে সরকারি স্বীকৃতি না মেলায় ক্ষোভ ও আক্ষেপ দুটোই রয়েছে শিল্পীর মনে। বিশ্বনাথ সরকার বলেন, “গীটার আমার সাধনা। শেষ দিন পর্যন্ত এই সাধনাই করে যাব। সম্মান পাই বা না পাই, সুরের সঙ্গেই বাঁচতে চাই।”






