রাজ্যের খবর

হারিয়ে যেতে বসা মিলেটের কদর ফেরাতে উদ্যোগ, পতিরামে দুই দিনের সচেতনতা মেলা

খাদ্যগুণ নিয়ে নতুন করে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে কৃষি দপ্তর

বিশ্বদীপ নন্দী, বালুরঘাট: রাগী, বাজরা, কাউন—একসময়ের পরিচিত মিলেট শস্য আজ অনেকটাই হারিয়ে যাওয়ার মুখে। আধুনিক কৃষি পদ্ধতির চাপে এই পুষ্টিকর শস্যগুলির চাষ কমে গেলেও, তাদের খাদ্যগুণ নিয়ে নতুন করে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে কৃষি দপ্তর।

সেই লক্ষ্যেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মাঝিয়ানের কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের উদ্যোগে পতিরাম পথসাথীতে আয়োজিত হল দু’দিনের মিলেট মেলা। মঙ্গলবার শুরু হওয়া এই মেলা বুধবার পর্যন্ত চলে। মেলায় গিয়ে দেখা গেল, মিলেট শস্যকে কেন্দ্র করে নানা প্রদর্শনী ও তথ্যভিত্তিক স্টলের পাশাপাশি জৈব কৃষি নিয়েও আলাদা করে সচেতনতার প্রচার চালানো হচ্ছে। শুধু প্রদর্শনী নয়, স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের নিয়ে আয়োজিত হয় মিলেট পদ রন্ধন উৎসব ও প্রতিযোগিতাও, যা দর্শকদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করে।

আয়োজকদের দাবি, মিলেট শস্য শুধু পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ নয়, পরিবেশবান্ধব চাষের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। অথচ সচেতনতার অভাবে এই শস্যগুলি ক্রমশ প্রান্তিক হয়ে পড়ছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য উমা সরকার দাস বলেন, “মিলেটের নাম আগে শুনেছি, কিন্তু এর এত উপকারিতা জানা ছিল না। এখানে এসে অনেক কিছু শিখলাম। এই উদ্যোগ আমাদের মতো অনেককেই সচেতন করবে।”

কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের কৃষি বিজ্ঞানী নকুল মণ্ডলের কথায়, “মিলেট শস্যের পুষ্টিগুণ অপরিসীম। অথচ চাষের পরিবর্তিত ধারা এই শস্যগুলিকে পিছিয়ে দিয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের মধ্যে মিলেট সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেই এই মেলার আয়োজন। জৈব কৃষির প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে।” মেলা ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহই প্রমাণ করছে, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিয়ে সচেতনতার এই উদ্যোগ কতটা তাদের উৎসাহিত করেছে।

Related Articles