ভ্রমণ

ঐতিহ্যবাহী স্মৃতি স্তম্ভ কাশীপুর রাজবাড়ি

Kashipur Rajbari tourisam

The Truth of Bengal: ছোট নাগপুর মালভূমির বুকে পাহাড় ও সবুজ অরন্যে ঘেরা জেলা পুরুলিয়া। লাল পলাশের দেশ এই পুরুলিয়াকে ঘিরে পর্যটন দিনকে দিন বাড়ছে। পুরুলিয়া বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে অযোধ্যা পাহাড়, শিমুল পলাশে ঘেরা ছোট ছোট টিলা আর আদিবাসীদের গ্রাম। তবে কখনও গেছেন কি পুরুলিয়ার ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ি কাশীপুরে? না গিয়ে থাকলে ২ দিনের ছুটি পেলেই দেখে আসুন স্তাপত্য শৈলীর নিপুণতায় ঘেরা এই রাজবাড়ি থেকে। কাশীপুর রাজবাড়ি পুরুলিয়ার সুপরিচিত ঐতিহ্যবাহী স্মৃতি স্তম্ভ। এই প্রাসাদ পুরুলিয়া স্টেশন থেকে ২৫ কিমি দূরে অবস্থিত। ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যাবে  মহারাজা নীলমনি সিং দেও ছিলেন কাশীপুরের প্রথম রাজা। তার নাতি, মহারাজা জ্যোতি প্রসাদ সিংদেও, পঞ্চকোট রাজবংশের ৬৭ তম রাজা, এই বিশাল প্রাসাদটি তিনি পুনর্নির্মাণ করেছিলেন।

প্রাসাদটি ১৯১৬ সালে নির্মিত হয়েছিল প্রাক্তন পুরুলিয়ার পঞ্চকোটের রাজ্যের রাজধানী কাশিপুরে। এই রাজবাড়ীর সাথে মাইকেল মধুসুধন দত্তের ও ইতিহাস জড়িত আছে।  মাইকেল একসময় এই রাজবাড়িতে চাকরি করতেন। কথিত আছে রাজবাড়ি নির্মাণের জন্য আমেরিকান কারিগর নিযুক্ত করা হয়েছিল। প্রাসাদের নির্মাণ কাজ একটানা ১২ বছর ধরে চলতে থাকে।বেলজিয়ামের আঁকা কাঁচ, বড় ঝাড়বাতি, পাথরের মূর্তি প্রাসাদের  রাজকীয়তা আরও ফুটিয়ে তোলে ।সেখানে রাজাদের ব্যবহার করা তলোয়ার এবং বর্শা মত বিভিন্ন অস্ত্র রয়েছে । তবে সাধারণ মানুষকে রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। প্রাসাদের একটি অংশ শুধুমাত্র দুর্গাপূজার সময় সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

কি ভাবে যাবেন ?

হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে পুরুলিয়া জংশনে নামতে হবে। এছাড়াও ধর্মতলা থেকেও বাসে করে চলে আসতে পারেন পুরুলিয়ায়। আর সেখান থেকে টোটো বা অটো ভাড়া করে চলে যেতে পারেন কাশীপুর রাজবাড়ি।

পুরুলিয়ার আশেপাশে অনেক হোটেল আছে রাত্রিবাসের জন্য, তাই কাশীপুর রাজবাড়ি দর্শনে পর্যটকদের থাকার কোন সমস্যা হবেনা। এই ঐতিহাসিক কাশীপুর রাজবাড়ি পর্যটকদের কাছে অবশ্যই একটি দর্শনীয় স্থান। তাই পুরুলিয়া আসলে আর কাশীপুর না গেলে পুরুলিয়া ভ্রমণ অধুরা থেকে যাবে।

Related Articles