খেলা

মৃত্যুর তিন বছর পরেও শেন ওয়ার্ন আজও রয়ে গিয়েছেন সকলের হৃদমাঝারে

Three years after his death, Shane Warne remains in everyone's hearts

Truth Of Bengal: দেখতে দেখতে তিন বছর অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছে। সে আর এই পৃথিবীতে নেই। ২০২২ সালের ৪ মার্চের দিনেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে অজানা দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন প্রাক্তন অস্ট্রেলিয়ান লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্ন। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটার হলেও ওয়ার্নের ব্যাপ্তি ছিল গোটা বিশ্বজুড়ে। সে কারণেই প্রয়াত হয়ে যাওয়ার পরেই ক্রিকেটেদর ভক্তদের হৃদমাঝারে রয়ে গিয়েছেন স্পিনের এই জাদুকর।

ইংল্যান্ড ক্রিকেটার লিভিংস্টোনের জার্সি নম্বর কত, সেটা এই মুহূর্তে আর কারোরই অজানা নয়। কিন্তু কেন তাঁর নিজের জার্সির এই নম্বরটাকে তিনি বেছে নিয়েছিলেন জানেন? যা শুনলে অনেক ক্রিকেটপ্রেমীর হৃদয়ই দেখা দেবে শ্রদ্ধা। কারণটা হল একটাই শেন ওয়ার্ন।

শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন লেগ স্পিনার মুথাইয়া মুরলীধরন শুধু এই উপমহাদেশের সেরা ক্রিকেটারই নন, বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা আর একজন লেগ স্পিনার। বর্তমান সময়ে দ্বীপরাষ্ট্র থেকে উঠে আসা ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা কিন্তু স্পষ্ট কণ্ঠে ঘোষণা করেন মুরলী নয়, সেরা একজনই তিনি হলেন ওয়ার্ন।

পিটার হ্যাটজাগলুর নামটা আজ ক্রিকেটেপ্রেমীদের অজানা নয়। বিগ ব্যাশের দৌলতে হ্যাটজাগলু এখন গোটা বিশ্বে পরিচিত একজন। সেই হ্যাটজাগলুও মূল্যবান পরামর্শ পেয়েছিলেন প্রয়াত শেন ওয়ার্নের কাছ থেকে।

১৯৯৯ সালের একটি ম্যাচে ড্যানিয়েল ফ্লেমিংয়ের বলে স্লিপে ফিল্ডিং করা ওয়ার্ন সহজ ক্যাচ ফসকালেন। ফলে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক গড়ে নজর গড়াও হল না ফ্লেমিংয়ের। তারপর যখন এই ঘটনার রেশ টেনে ফ্লেমিংয়ের কণ্ঠে আপশোস ঝড়ে পড়েছিল, তখন তাঁর সতীর্থ ওয়ার্নই ফ্লেমিকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘কামন মেট, ইউ ডোস্ট ডিসার্ভ টু হ্যাটট্রিক।’ যা এখনও ভুলতে পারেন না ফ্লেমিং।

ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার রেহান আহমেদকে ডেকে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন প্রয়াত ওয়ার্ন। যখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর। রেহান আজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উজ্জ্বল। কিন্তু ওয়ার্ন। তিনি পাড়ি দিয়েছেন ঘুমের দেশে।

কিন্তু কি মাঠ কিংবা মাঠের বাইরে ওয়ার্ন বরাবরই ছিলেন ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব। যা লিখতে গেলে এক কথায় খবরের কাগজের পুরো পৃষ্ঠাই শেষ হয়ে যাবে। তবুও মাঠের বাইরের একটি ঘটনা তুলে ধরা। ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে অ্যাশেজ সিরিজে ইংরেজরা ছিলেন অপ্রতীরোধ্য। এমসিজিতে আয়োজিত এক ম্যাচে মাঠে প্রবেশ করলেন এক দর্শক। যাঁর হাতে ছিল বিয়ারের বোতল, এবং গলফের বল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইংল্যান্ড অধিনায়ক স্ট্রুয়ার্ট ডেকে পাঠালেন একজনকে। তিনি সেই ওয়ার্ন। তারপর তো বাকিটা ইতিহাস। ঘরের ছেলেকে কাছে পেয়ে অভিভূত দর্শকরা। এটাই ওয়ার্নের বিশেষত্ব।

আর মাঠের বাইরে তিনি তো আপামর মাটির মানুষ। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে বার বার ছুটে গিয়েছেন বিভিন্ন জায়গায়। শ্রীলঙ্কার মানুষ আজও ভোলেননি মানুষ ওয়ার্নকে। ইংল্যান্ডের মানুষ আজও আফসোস করেন ওয়ার্ন যদি তাঁদের দেশের ক্রিকেটার হতেন, তাহলে আর কথাই ছিল না। কিন্তু তা আর হয়নি। আফশোস রয়ে গেল তাঁদের।

Related Articles