খেলা

অপ্রত্যাশিত নেতৃত্ব বদলের গল্প, ধোনিকে ঘিরে স্মৃতিচারণে যুবরাজের খোলামেলা স্বীকারোক্তি  

এই প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে মুখ খুললেন প্রাক্তন ভারতীয় অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং।

Truth Of Bengal: আইপিএলের নতুন মরশুম শুরু হতেই সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অধিনায়ক নির্বাচন ঘিরে তৈরি হয়েছে জোর আলোচনা। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স শুরুর দিকে অনুপস্থিত থাকায় দলের নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে ঈশান কিসানের হাতে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত সহজভাবে নিতে পারেননি অনেকেই, বিশেষ করে অভিষেক শর্মার নাম যখন জোরালভাবে সামনে ছিল।

এই প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে মুখ খুললেন প্রাক্তন ভারতীয় অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং। অভিষেকের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করার সুবাদে তিনি জানালেন, এই সিদ্ধান্তে কিছুটা হতাশ হওয়াটা স্বাভাবিক। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে একটি দলের হয়ে খেলে, নিজের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার পরও যদি নেতৃত্বের দায়িত্ব না মেলে, তা যে কোনও খেলোয়াড়ের মনেই প্রভাব ফেলে।

তবে একইসঙ্গে ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেছেন যুবরাজ। তাঁর মতে, ঈশান কিসান ও অভিষেক শর্মার মধ্যে ভাল সম্পর্ক রয়েছে, যা এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সাহায্য করবে। দলগত পরিবেশ ঠিক থাকলে ব্যক্তিগত হতাশা কাটিয়ে ওঠা অনেকটাই সহজ হয় বলেই মনে করেন তিনি।

এই প্রসঙ্গেই ২০০৭ সালের একটি স্মৃতি তুলে আনেন যুবরাজ। তখন ভারতীয় দলে তিনি সহ-অধিনায়ক, পাশাপাশি অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসাবে ছিলেন হরভজন সিং ও বীরেন্দ্র সেহওয়াগ। কিন্তু হঠাৎ করেই নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয় মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। সেই সময় ধোনি তুলনামূলকভাবে কম অভিজ্ঞ হলেও, পরে তিনি ভারতীয় ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেন।

যুবরাজের কথায়, কিছু সিদ্ধান্ত হয়তো বাইরে থেকে অবাক করে, কিন্তু সময় প্রমাণ করে দেয় তার সঠিকতা। ধোনির ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই ঘটেছিল। তবে একজন খেলোয়াড়ের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, এমন সিদ্ধান্ত প্রথমে হতাশাজনক মনে হওয়াই স্বাভাবিক।

অভিষেক শর্মার প্রসঙ্গে যুবরাজ আরও বলেন, এত বছর ধরে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে থাকার পর নেতৃত্বের সুযোগ পাওয়া উচিত ছিল তাঁর। তবুও এখন যেহেতু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গিয়েছে, তাই সেটিকে মেনে নিয়ে দলের স্বার্থে এগিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

শেষে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দেন— কখনও কখনও আঘাতই হতে পারে সবচেয়ে বড় প্রেরণা। সেই হতাশাকে শক্তিতে পরিণত করে আরও ভাল পারফরম্যান্স দেওয়াই একজন পেশাদার খেলোয়াড়ের আসল পরিচয়। এখন দেখার, মাঠে সেই মানসিকতার প্রতিফলন কতটা দেখা যায়।

 

Related Articles