‘এসআইআর’ প্রচারের মূল অস্ত্র, মধ্য হাওড়ায় দুর্ভেদ্য দুর্গে মার্জিন বাড়ানোই টার্গেট অরূপ রায়ের
তৃণমূল শিবিরের দাবি, 'উন্নয়ন'কে হাতিয়ার করেই তাঁরা মধ্য হাওড়ার ভোটারদের আশীর্বাদ পাবেন।
Truth Of Bengal: সুমন আদক, হাওড়া: তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তিশালী ‘দুর্ভেদ্য দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত মধ্য হাওড়া বিধানসভায় শাসক দলের প্রার্থী দলের হাওড়া সদরের চেয়ারম্যান তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়। তৃণমূল শিবিরের দাবি, ‘উন্নয়ন’কে হাতিয়ার করেই তাঁরা মধ্য হাওড়ার ভোটারদের আশীর্বাদ পাবেন। প্রার্থী ঘোষণার পর দেওয়াল লিখনের মাধ্যমে প্রাথমিক প্রচার শুরু করলেও রবিবার হাজারহাত কালী মন্দিরে পুজো দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পাড়ায় পাড়ায় প্রচার ও জনসংযোগ শুরু করেছেন অরূপ। প্রচারের বিষয়ে ‘আরো খবর’কে তিনি জানান, এবার তাঁর প্রচারের মূল অস্ত্র ‘এসআইআর’। এসআইআরের নাম করে যেভাবে মানুষকে অযথা হয়রানি করা হয়েছে এবং বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে সেটাই প্রচারে তুলে ধরছেন তিনি।

প্রতিদিন সকাল থেকেই ওয়ার্ড ধরে চলছে প্রচার। কখনো পায়ে হেঁটে আবার কখনো হুড খোলা গাড়িতে প্রচার করছেন তিনি। প্রিয় খাবারের তালিকায় রাবড়ি, তালশাঁস সন্দেশ সহ নানা পদ থাকলেও শরীর ফিট রাখতে খাবারের তালিকা থেকে এসব বাদ দিয়েছেন অনেক আগেই। তাই স্বাস্থ্য সচেতন অরূপবাবু হালকা বাঙালি খাবারেই প্রতিদিন ভরসা রাখেন। বছরভর ব্যস্ততার মাঝেই প্রতিদিন নিয়ম করে মাঠে হাঁটা এবং ব্যায়ামও তাঁর দৈনন্দিন রুটিনের মধ্যেই পড়ে। পরিসংখ্যান বলছে, গত ২০১১ সালে অরূপ রায় এই কেন্দ্র থেকে হারিয়েছিলেন তৎকালীন সিপিএম প্রার্থীকে ৫০,৬৭০ ভোটের ব্যবধানে। এরপর ২০১৬ সালে জেডিইউ প্রার্থী অমিতাভ দত্তকে ৫২,৯৯৪ ভোটে পরাজিত করেন তিনি।

২০২১ সালে বিজেপি’র সঞ্জয় সিংকে ৪৬,৫৪৭ ভোটে পরাজিত করেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী অরূপ রায়। তারও আগে ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ের রথ অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে সিপিএমকে সরিয়ে বিজেপি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এলেও তৃণমূলের মজবুত ভিতকে টলাতে পারেনি বিরোধীরা। তৃণমূলের দাবি স্বাস্থ্য, শিক্ষা সহ বিভিন্ন নাগরিক পরিষেবা ক্ষেত্রে মন্ত্রী এবং এলাকার বিধায়ক হিসেবে অরূপ রায় প্রচুর ‘উন্নয়ন’ করেছেন।

‘আস্থা’ প্রকল্পের মাধ্যমে গত কয়েক বছরে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা কয়েক’শ ছাত্রছাত্রীকে ল্যাপটপ দেওয়া হয়েছে। প্রায় হাজারেরও বেশি মানুষকে বিনা খরচে চোখের ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে হাজারেরও বেশি শিশু স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে সহায়তা পেয়েছে। বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান, ট্রাই সাইকেল, হুইল চেয়ার দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও হাওড়া ময়দানের ‘রেড ক্রস’ সোসাইটির পরিকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন সময়ে মোট ৬০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। হাওড়া জেলা হাসপাতালের আধুনিকীকরণের জন্য পরিকাঠামোগত উন্নয়নেও মন্ত্রী অরূপ রায় কাজ করেছেন। বাম আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক অরূপ রায়ের উদ্যোগে পুনরায় খোলা হয়েছে। মানুষের গচ্ছিত টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রাজ্য সরকারের ‘সুফল বাংলা বিপণন কেন্দ্রে’র মাধ্যমে মানুষ অল্প পয়সায় টাটকা উন্নতমানের সবজি পেয়ে থাকেন। এছাড়াও বিভিন্ন বোর্ডের কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের একসঙ্গে সম্মান প্রদান এবং মেধা সম্মান প্রদান অরূপ রায়ের আরও একটি উদ্যোগ। এছাড়া স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতি বিজড়িত হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর গঙ্গার ঘাটে স্বামীজির স্মরণে ‘বিবেক দুয়ার’ তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও হাওড়া জেলার অন্যতম সাংস্কৃতিক পীঠকেন্দ্র শরৎ সদনে মুক্তমঞ্চ নির্মাণ সহ আধুনিকীকরণেও উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। হাওড়া পুরসভার ঐতিহাসিক গুরুত্বের টাউন হলের সংস্কার করে সেটির পুনরায় চালুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও টিকিয়াপাড়ার ইস্ট-ওয়েস্ট বাইপাস রোডের দু’পাশের সৌন্দর্যায়ন ঘটানো হচ্ছে। এলাকার নিকাশির সমস্যার সমাধানে মাস্টার প্ল্যান তৈরি করে কাজ চলছে।

বিভিন্ন ওয়ার্ডে একাধিক রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। একাধিক পথবাতি ও সিসিটিভি লাগানো হয়েছে। একাধিক বাস টার্মিনাস তৈরি করা হয়েছে। এলাকার বিভিন্ন স্কুল বিল্ডিংয়ের সংস্কার করা হয়েছে। আগামী ৫ বছর কী কী কাজ করতে চান এবিষয়ে অরূপ রায় বলেন, মধ্য হাওড়া এলাকার সার্বিক উন্নয়নের ধারা বজায় রাখা হবে। এলাকার বাজার যেমন শিবপুর বাজার, কালীবাবুর বাজার, চ্যাটার্জিহাট বাজারগুলির আমূল সংস্কার করা হবে। এলাকায় কয়েকটি কমিউনিটি হল তৈরি করে বিয়ে বাড়ি সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ন্যূনতম মূল্যে ভাড়া দেওয়া হবে।

নিকাশি সমস্যার কাজ দ্রুত শেষ করা হবে। এলাকায় জলের যোগান আরও বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হবে। আরও অনেক রাস্তাঘাট তৈরি করা হবে। এছাড়া প্রতিটি বাড়িতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালু করা প্রকল্প পৌঁছেছে। লক্ষ্মীর ভান্ডার, যুবসাথী, স্বাস্থ্যসাথী, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, যুবশ্রী থেকে শুরু করে প্রতিটি প্রকল্পই মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। প্রচারে বেরিয়ে অরূপ রায় বলেন, ‘প্রার্থী ঘোষণার পর দেওয়াল লিখন শুরু করেছি। আমার নতুন করে প্রচার করার কিছু নেই। ১৫ বছর ধরে এখানে কাজ করে আসছি। আমরা মানুষের কাছে যাচ্ছি। আমাদের উন্নয়নের কথা মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। এসআইআরের ‘অ্যাডজুডিকেশন’, আবার কখনও ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ এর নামে মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে মানুষ ক্ষিপ্ত। আমি নিশ্চিত আমরা এবারও বিপুল ভোটে জিতব।’

২০২১ এর ফলাফল:
অরূপ রায় (তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী) – ১,১১,৫৫৪
সঞ্জয় সিং (বিজেপি প্রার্থী) – ৬৫,০০৭

২০২৬ এর প্রার্থীরা:
অরূপ রায় (তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী)
বিপ্লব মণ্ডল (বিজেপি প্রার্থী)
ইমতিয়াজ আহমেদ (সিপিআইএম প্রার্থী)
অপর্ণা বোস (জাতীয় কংগ্রেস প্রার্থী)



