রায়ানের পর আরও এক বিদেশি ভারতের দলে, সন্দেশ-আনোয়ারদের সতীর্থ ফুটবলার কে?
Truth of Bengal: AFC এশিয়ান কাপে ভারতের আর যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ না থাকায় বাছাই পর্বের বাকি ম্যাচগুলিতে একাধিক পরীক্ষামূলক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (AIFF)। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দলে যুক্ত করা হচ্ছে নতুন ও অপ্রচলিত নাম।
সুনীল ছেত্রীর বিকল্প হিসেবে ভারতীয় দলে ইতিমধ্যেই সুযোগ পেয়েছেন রায়ান উইলিয়ামস। এবার ডিফেন্সে যোগ দিলেন আরও এক নতুন নাম- অবনীত ভারতী। নেপালে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলারকে নিয়ে বড় আশা দেখছে ভারতীয় শিবির। বুধবার AIFF আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ফলে এই প্রথমবার ভারতীয় জাতীয় দলের ক্যাম্পে একসঙ্গে দুই বিদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার থাকছেন। হংকংয়ের বিরুদ্ধে আসন্ন AFC বাছাই ম্যাচে মাঠে নামবে ভারত। সেই ম্যাচের জন্যই দলে আনা হয়েছে রায়ান উইলিয়ামসকে। তবে তাঁর অভিষেক বাংলাদেশ ম্যাচে হয়নি, কারণ ফিফার ক্লিয়ারেন্স সময়মতো পাওয়া যায়নি। আশা করা হচ্ছে, ৩১ মার্চ হংকংয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচেই ভারতের জার্সিতে অভিষেক হবে তাঁর।
অন্যদিকে, অবনীত ভারতী এখনও FIFA-র অনুমোদন না পাওয়ায় অভিষেকের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তবে তাঁকে দলে রেখে কোচ খালিদ জামিল তাঁকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করতে চাইছেন। সন্দেশ ঝিঙ্গান ও আনোয়ার আলির সঙ্গে প্রতিরক্ষায় আরও একটি বিকল্প হিসেবে তাঁকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
অবনীতের ফুটবল যাত্রা বেশ ঘুরপথে তৈরি। নেপালে জন্ম হলেও ছোটবেলায় তিনি নাইজেরিয়ায় গোলকিপার হিসেবে খেলতেন। পরে ভারতে ফিরে এসে ডিফেন্ডার হিসেবে নিজের কেরিয়ার গড়ে তোলেন। BGS ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং শাস্ত্রী এফসির হয়ে খেলার পর তিনি ভারতের অনূর্ধ্ব-১৬ দলে সুযোগ পান।
এরপর সিঙ্গাপুরের গেইলাং ইন্টারন্যাশনাল ক্লাবে ট্রেনিং, স্পেনের রিয়াল ভায়াদোলিদের অ্যাকাডেমিতে উন্নত প্রশিক্ষণ এবং জার্মানিতে ট্রায়াল- সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। পরে পোল্যান্ডের একটি ক্লাবে পেশাদার কেরিয়ার শুরু করেন।
মেক্সিকোর ক্লাব আমেরিকায় খেলার সুযোগ প্রায় তৈরি হলেও গুরুতর হাঁটুর চোটে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। ২০১৯ সালে ভারতে ফিরে কেরালা ব্লাস্টার্সে খেললেও তেমন সাফল্য পাননি। বর্তমানে তিনি চেক প্রজাতন্ত্রের একটি ক্লাবে খেলছেন।
এবার ভারতের জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে অবনীত ভারতী। তাঁর পারফরম্যান্সেই এখন নজর দেশের ফুটবল মহলের।






