Lords Test: লর্ডসের ক্রিকেট ইতিহাসের পাঁচ কাহন
তাই লর্ডসের 'হোম অফ ক্রিকেট'-এ একটি আকর্ষণীয় ম্যাচ হওয়ার জন্যে মঞ্চ সুন্দরভাবে প্রস্তুত বলা যায়।
যুধাজিৎ মুখোপাধ্যায় (বিসিসিআই কোচ ও প্রাক্তন ক্রিকেটার): বৃহস্পতিবার লর্ডসে তৃতীয় টেস্টের দামামা বেজে গেছে। দুর্দান্ত ফর্মে আছে ভারত। অনেকেই বলছে ইংল্যান্ডের মাটিতে তাদের চতুর্থ সিরিজ জয় এখন সময়ের অপেক্ষা! প্রথম টেস্টে ভাল খেলেও হেরে যাওয়ার পর গত সপ্তাহে এজবাস্টনে দ্বিতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডকে ৩৩৬ রানে হারিয়ে ভারত পাঁচ ম্যাচের এই সিরিজে সমতা ফিরিয়ে এনেছে। তাই লর্ডসের ‘হোম অফ ক্রিকেট’-এ একটি আকর্ষণীয় ম্যাচ হওয়ার জন্যে মঞ্চ সুন্দরভাবে প্রস্তুত বলা যায়। এই টেস্ট নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে বারবার উঠে আসছে যে বিষয়গুলো সেগুলো একবার দেখে নেওয়া যাক (Lords Test)।
ইংল্যান্ড কি এরপরেও বাজবল-এর খেলা চালিয়ে যাবে?
সত্যি কথা বলতে কি, ইংল্যান্ড-এর ব্যাটিং এবং বোলিং-এর খারাপ অবস্থা অনেকটাই বেরিয়ে পড়েছে এই সিরিজে। রুট এবং স্টোকস ছাড়া ইংল্যান্ড-এর সেরকম কোনও ব্যাটার নেই যারা গিল-রাহুল-পন্থ-যশস্বীদের সমপর্যায়ে থাকার দাবি করতে পারে। তারপর স্টোকসরাও ফর্মে নেই। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে অ্যান্ডারসন-ব্রড পরবর্তী রীতিমত নিম্নমধ্যমানের বোলিং। এরকম অবস্থায় শুধু আক্রমণের নীতি নিলে কী হতে পারে, তা দ্বিতীয় টেস্টে হাতে কলমে বুঝিয়ে দিয়েছে গিলের দল। তাই এই টেস্টে স্টোকস-এর দল কখন এবং কতটা আক্রমণের রাস্তায় যাবে সেটা দেখার বিষয়। লর্ডসের সবুজ পিচে তারা অবশ্যই ভারতকে চিরাচরিত ফাস্ট বোলিং ফর্মুলাতেই আক্রমণ করবে। কিন্তু ওই পিচেই তাদেরও খেলতে হবে চূড়ান্ত ফর্মে থাকা ভারতীয় পেস আক্রমণকে, যাদের সবাই সিরিজে অন্তত একটা করে ‘পাঁচ উইকেট’ নিয়ে ফেলেছে। সেখানে ইংল্যান্ড-এর কেউই সে কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেনি। তাই এটা দেখার যে ‘বাজবল’ চাপে পড়ে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থার নীতি আপন করে নেয় কিনা (Lords Test)।
আরও পড়ুন: Tourism Appeal: জম্মু ও কাশ্মীর পর্যটনের জন্য প্রস্তুত, পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে আমন্ত্রণ ওমর আবদুল্লার
গিল কি ব্র্যাডম্যানের রেকর্ড ভাঙতে পারবেন?
শুভমান গিল সদ্য অবসর নেওয়া রোহিত শর্মার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর অধিনায়ক হিসেবে তাঁর প্রথম দুটি টেস্টে অসাধারণ ৫৮৫ রান করেছেন। এজবাস্টনে ২৬৯ এবং ১৬১ রানের ইনিংস দুটিতেই প্রশংসনীয়ভাবে সংযম এবং আক্রমণের ভারসাম্য বজায় রেখে গিল টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম ব্যাটার হিসেবে একই ম্যাচে ২৫০ এবং ১৫০ রান করেছেন। গিল এখন এতটাই ফর্মে যে অস্ট্রেলিয়ার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান – যাঁকে গ্রেটেস্ট অফ অল টাইম বলা হয় – তাঁর এক টেস্ট সিরিজে ৯৭৪ রানের রেকর্ড ভাঙতে পারে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন। ‘আপনার প্রতিপক্ষকে কৃতিত্ব দিতে হবে – এই খেলায় তিনি যত রান করেছেন তত বেশি রান করা একটি অসাধারণ সাফল্য’, একথা স্বয়ং ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকসও স্বীকার করেছেন। তবে, স্টোকসের জন্যে একটু আশার আলো যে ব্র্যাডম্যানের রেকর্ড ৯৫ বছর ধরে টিকে আছে। অনেক ব্যাটসম্যানই সিরিজের শুরুতে দারুণ খেলে এই রেকর্ড ভাঙার আশা জাগিয়েও পরের দিকে ওই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেননি। যেমন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক গ্রেম স্মিথ ২০০৩ সালে এজবাস্টন এবং লর্ডসে প্রথম দুটি টেস্টে পরপর দুটি ডাবল সেঞ্চুরি করে মোট ৬২১ রান করলেও বাকি তিনটি টেস্টে মাত্র ৯৩ রান করতে পেরেছিলেন। অতএব গিলের পক্ষে ডনকে ধরা এখন অতটা অবিশ্বাস্য না লাগলেও যথেষ্ট মুশকিল তো বটেই (Lords Test)!

Truth of Bengal fb page: https://www.facebook.com/share/193NB43TzC/
ইংল্যান্ডের সাদামাটা আক্রমণকে কি আর্চাররা পুনরুজ্জীবিত করতে পারবেন?
ফাস্ট বোলার জোফরা আর্চার শেষ টেস্ট খেলার পর চার বছরেরও বেশি সময় হয়ে গেছে। এর মধ্যে বারবার চোটে আক্রান্ত এই অতি দ্রুতগতির বোলার আপাতত এখন লর্ডসে ফিরে আসার জন্য প্রস্তুত বলে মনে করা হচ্ছে। ভুলে যাওয়া যায় না কীভাবে এই লর্ডসেই ২০১৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সেরা ব্যাটার স্টিভ স্মিথকে ভয়ঙ্কর বাউন্সার দিয়ে তাঁর টেস্টে অভিষেক হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে চোট-আঘাতে ভুগে এতদিন পর ফিরে এসে আর্চার কি আগের মতোই ভয়ানক বোলিং করতে পারবেন ? তা নিয়ে কিন্তু সন্দেহ রয়ে যাচ্ছে। তবে ইংল্যান্ডের কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে বলেছেন, ‘সে অবশ্যই তার আঘাতজনিত লম্বা বিরতির মধ্য দিয়ে গেছে, তবে আমরা সবাই জানি সে কী করতে পারে। আমরা আশা করি যে যখন সুযোগ আসবে, তখন সে তার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে পারবে এবং ইতিমধ্যে যা করতে পেরেছে তার থেকেও ভালো করতে পারবে (Lords Test)।’
(ক্রমশঃ)






