খেলা

মেলবোর্নে রূপকথা! ১৫ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ জয়

দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টের মাঝখানে নুসা সমুদ্রসৈকতে অতিরিক্ত মদ্যপানের অভিযোগ ওঠে একাধিক ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে।

Truth Of Bengal: প্রথমবার অ্যাশেজ টেস্টের প্রথম দিনেই কুড়ি উইকেটের পতন দেখেছিল মেলবোর্ন। শনিবার সব মিলিয়ে পড়ল ১৬ উইকেট। তবে শেষ পর্যন্ত ৫৪৬৮ দিন পর মেলবোর্নে মাত্র দু’দিনেই অস্ট্রেলিয়াকে ৪ উইকেটে হারিয়ে ১৫ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল বেন স্টোকসের দল। ৫৪৬৮ দিন ও টানা ১৮ টেস্ট পর এল সেই বহু প্রতীক্ষিত জয়।অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইংল্যান্ড শেষবার টেস্ট জিতেছিল ২০১০-১১ সালের অ্যাশেজ়ে, সিডনিতে। সেই সিরিজ়েই মেলবোর্নেও জিতেছিল তারা। তারপর পরের তিন অস্ট্রেলিয়া সফরে ১৫ টেস্টের মধ্যে ১৩টিতেই হার মানতে হয়েছিল ইংল্যান্ডকে। চলতি সিরিজ়েও প্রথম তিন টেস্টে হারের পর চুনকামের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু মেলবোর্নে ঘুরে দাঁড়িয়ে সেই আশঙ্কা কাটালেন স্টোকসরা।

এই টেস্টের আগে কোণঠাসা ছিল ইংল্যান্ড শিবির। দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টের মাঝখানে নুসা সমুদ্রসৈকতে অতিরিক্ত মদ্যপানের অভিযোগ ওঠে একাধিক ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয় ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। অধিনায়ক হিসেবে নিজের সবচেয়ে কঠিন সময়ের কথা স্বীকার করে সমর্থকদের পাশে থাকার আবেদন জানিয়েছিলেন স্টোকস। মেলবোর্নে হারলে তাঁর ও কোচ ব্রেন্ডন ম্যাকালামের চাকরি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারত। এই জয়ে আপাতত স্বস্তি পেলেন দু’জনেই।মেলবোর্নের পিচে ১০ মিলিমিটার ঘাস রেখে পেসারদের সহায়তা করতে চেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু নিজেদের পাতা ফাঁদেই পা দিলেন স্মিথরা। দু’দিনে পড়ল মোট ৩৬ উইকেট। প্রথম দিনেই পড়ে যায় ২০ উইকেট—অ্যাশেজ় ইতিহাসে যা নজির। দু’দিনে চার ইনিংস মিলিয়ে মোট রান হল মাত্র ৫৭২।টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন স্টোকস। সিদ্ধান্ত সঠিক প্রমাণ করেন ইংল্যান্ডের বোলারেরা। ট্রেভিস হেড (১২) দ্রুত ফিরলেও পরে দ্বিতীয় ইনিংসে লড়াই করেন তিনি। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। খোয়াজা (২৯) ও ক্যারে (২০) ছাড়া কেউ দাঁড়াতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৪৫.২ ওভারে ১৫২ রানে অল আউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। জশ টং ৫ উইকেট নেন, গাস অ্যাটকিনসন নেন ২টি।

পাল্টা ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডও ধসে পড়ে। মিচেল স্টার্কের দাপটে ২৯.৫ ওভারে মাত্র ১১০ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ১৬ রানে ৪ উইকেট পড়ার পর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে হ্যারি ব্রুক (৪১) কিছুটা লড়াই করেন। ন’নম্বরে নেমে গাস অ্যাটকিনসন করেন গুরুত্বপূর্ণ ২৮ রান। তাতেই কোনও মতে ১০০ পেরোয় ইংল্যান্ড।প্রথম ইনিংসে ৪২ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়াও ব্যর্থ হয়। ট্রাভিস হেড ৪৬ রান করলেও অন্য প্রান্তে কেউ সঙ্গ দিতে পারেননি। স্মিথ করেন ২৪, গ্রিন ১৯ রান। শেষ পর্যন্ত ৩৪.৩ ওভারে ১৩২ রানে অল আউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ব্রাইডন কার্স নেন ৪ উইকেট, স্টোকস ৩টি। ১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এই সিরিজ়ে প্রথমবার ভালো শুরু পায় ইংল্যান্ড। জ্যাক ক্রলি (৩৭) ও বেন ডাকেট (৩৪) ৫১ রানের জুটি গড়েন। চারে নামা জ্যাকব বেথেল করেন ৪০ রান। রুট আবারও ব্যর্থ হলেও ততক্ষণে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় স্টোকসের দল। এই জয়ে অস্ট্রেলিয়ার হোয়াইটওয়াশের স্বপ্ন ভেঙে যায়। ২০১৩-১৪ সালের মতো আর চুনকাম করতে পারলেন না স্মিথরা। ১৫ বছর পর মেলবোর্নেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের খরা কাটাল ইংল্যান্ড—লজ্জামুক্তির জয়, স্বস্তির জয়।