৯৩% মহিলা ভোটে কার কপাল খুলবে? তৃণমূলের অন্দরে শুরু মহাযুদ্ধ!
পুরুষদের ছাপিয়ে গেল নারীশক্তি, প্রথম দফার ভোটে নয়া সমীকরণ
Truth of Bengal: প্রথম দফার ১৫২টি আসনে ভোটদানের হার ৯৩ শতাংশ স্পর্শ করতেই রাজ্য রাজনীতিতে এখন একটাই মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন, মহিলাদের এই বিপুল ভিড় কার দিকে? শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এখন এই নিয়েই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আলোচনা ঘুরপাক খাচ্ছে দুটি মেরুকে কেন্দ্র করে: এই ভোট কি ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের’ আশীর্বাদ, নাকি আরজি কর আবহে তৈরি হওয়া সেই ‘রাতদখলের’ প্রতিবাদ?
গত ১৭ বছর ধরে বাংলার রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান শক্তি ছিল ‘ডবল এম’ (মহিলা ও মুসলিম) সমীকরণ। বৃহস্পতিবার ভোটের লাইনে মহিলাদের যে দীর্ঘ সারি দেখা গিয়েছে, তৃণমূলের নিজস্ব হিসেবে তাঁদের ভোটদানের হার পুরুষদের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ বেশি। দলের একাংশ মনে করছেন, আরজি কর কাণ্ডের পর মহিলাদের মধ্যে যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল, তা মূলত শহরকেন্দ্রিক এবং বামমনস্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। গ্রামীণ বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো এখনও মহিলাদের কাছে তুরুপের তাস।
তৃণমূলের মহিলা সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এই বিপুল ভোটদানকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার (SIR) বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন। তাঁর দাবি, “বিপুল সংখ্যক মহিলা নাগরিক অধিকার রক্ষার তাগিদে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আস্থা জানিয়েই বুথমুখী হয়েছেন। তাঁরা জানেন বিজেপি মহিলাদের কী চোখে দেখে আর দিদি তাঁদের জন্য কী করেছেন।” অর্থাৎ, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব মহিলাদের এই অংশগ্রহণকে ‘কালীঘাটের দিদির’ প্রতি সমর্থনের সিলমোহর হিসেবেই দেখছেন।
তবে দলের অন্দরে কিছুটা আশঙ্কার সুরও শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে যেখানে মেরুকরণের রাজনীতি তীব্র, সেখানে হিন্দু মহিলাদের ভোটের বড় অংশ বিজেপির দিকে ঘুরে গেল কি না, তা নিয়ে সন্দিহান অনেকে। অন্যদিকে, মালদহ ও মুর্শিদাবাদের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় মহিলারা ঢাল হয়ে মমতার পাশে দাঁড়িয়েছেন বলেই মনে করছে শাসক শিবির। ১৫ বছরের শাসনে তৈরি হওয়া ‘প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা’ কি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মায়া কাটিয়ে ইভিএমে পরিবর্তনের ঝড় তুলল? না কি ‘মসিহা’ মমতার আঁচলেই শেষ পর্যন্ত আস্থা রাখল বাংলার নারীশক্তি? উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে।






