কলকাতা

“যাদবপুর নিয়ে এত ঘৃণা কেন?”, মেধার অবমাননায় মোদীকে বিঁধলেন মমতা

যাদবপুর সন্ত্রাস নয়, উৎকর্ষের পীঠস্থান! প্রধানমন্ত্রীর ‘নিকৃষ্ট’ আক্রমণের পালটা দিলেন ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী

Truth of Bengal: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির করা সাম্প্রতিক মন্তব্যের জেরে রাজ্য রাজনীতিতে প্রতিবাদের ঝড় উঠল। প্রধানমন্ত্রীর ‘নৈরাজ্য’ মন্তব্যের পাল্টা কড়া ভাষায় তোপ দেগেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবমাননা করার প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তিনি।

যাদবপুরের পড়ুয়াদের বুদ্ধিবৃত্তি ও প্রশ্ন করার ক্ষমতাকে সম্মান জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা তাদের যোগ্যতা দিয়ে জায়গা করে নেয়। তারা বুদ্ধি আর প্রশ্ন করার ক্ষমতা নিয়ে বেরিয়ে আসে। এটাকে নৈরাজ্য বলে না, একেই বলে শিক্ষা এবং উৎকর্ষ।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন যে, যে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সরকারের এনআইআরএফ (NIRF) র‍্যাঙ্কিংয়ে বছরের পর বছর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিচ্ছে, সেই প্রতিষ্ঠানকে অপমান করার আগে প্রধানমন্ত্রী কি সৌজন্য ও শিষ্টাচারের কথা ভুলে গিয়েছেন?

এদিন নৈরাজ্যের সংজ্ঞা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ শানান তৃণমূল নেত্রী। তাঁর সাফ কথা, পড়ুয়ারা প্রতিবাদ করলে সেটা নৈরাজ্য নয়, বরং গণতান্ত্রিক অধিকার। প্রকৃত নৈরাজ্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “নৈরাজ্য হলো বুলডোজার দিয়ে ন্যায়বিচারকে পিষে দেওয়া, কৃষকদের কণ্ঠরোধ করা এবং রাজনৈতিক স্বার্থে অপরাধীদের মুক্তি দেওয়া। নৈরাজ্য হল গরিব মানুষকে তাদের পাওনা থেকে বঞ্চিত করা এবং ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ করা।” মণিপুর ইস্যুতে মোদীকে বিঁধে তিনি আরও বলেন, “মণিপুর যখন জ্বলছে, তখন আপনি নির্বাচনে ব্যস্ত, এটাই আসল নৈরাজ্য।”

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় যার সঙ্গে ঋষি অরবিন্দের মতো জাতীয়তাবাদী বিপ্লবীর নাম জড়িয়ে আছে, তাকে কলঙ্কিত করার চেষ্টার তীব্র নিন্দা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার ঐতিহ্য এবং মেধাকে অপদস্থ না করার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কড়া আবেদন জানান। রাজনৈতিক মহলের মতে, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রীর যাদবপুর সংক্রান্ত মন্তব্যকে হাতিয়ার করে ‘বাঙালি ভাবাবেগ’ ও ‘মেধা’র লড়াইকে আরও জোরালো করতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী।

Related Articles