কলকাতা

“মনে হচ্ছিল স্বপ্ন দেখছি”, মোদির আলিঙ্গনে আবেগপ্রবণ গৌরাঙ্গ, প্রিন্সেপ ঘাটের মাঝি রাতারাতি তারকা

নৌকাবিহার শেষে গৌরাঙ্গকে জাপ্টে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

Truth of Bengal: শুক্রবার সকালে তিলোত্তমার প্রিন্সেপ ঘাটে যখন গঙ্গার ঢেউয়ের দোলায় রোজনামচা শুরু হয়েছিল, তখন ঘুণাক্ষরেও কেউ ভাবেননি কী হতে চলেছে। সাধারণ মাঝিগিরি করে যাঁর পেট চলে, সেই গৌরাঙ্গ বিশ্বাস এখন খোদ প্রধানমন্ত্রীর ‘ফেভারিট’ মাঝি! মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তিনি আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের ভিড় থেকে হয়ে উঠেছেন রীতিমতো সেলিব্রিটি। কারণ, শুক্রবার সকালে গঙ্গার বুকে গৌরাঙ্গর বৈঠার টানেই নৌকাবিহার করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

নৌকাটি গৌরাঙ্গর নিজের নয়, তিনি মহম্মদ ইফতিকার আহমেদের নৌকায় দিনমজুরি করেন। শুক্রবার সকালে আচমকাই উচ্চমহল থেকে তলব আসে ইফতিকারের কাছে। বলা হয়, তাঁর নৌকায় এক ভিভিআইপি সফর করবেন। কিন্তু সেই ভিভিআইপি যে খোদ প্রধানমন্ত্রী, তা দেখে চমকে ওঠেন উপস্থিত সবাই। সাদামাটা পোশাক, চোখে সানগ্লাস আর হাতে ক্যামেরা নিয়ে গৌরাঙ্গর নৌকায় পা রাখেন মোদি। মাঝগঙ্গায় ঘোরার পাশাপাশি কলকাতার বেশ কিছু ছবিও তোলেন তিনি।

সফর শেষে কেবল ভাড়াই নয়, গৌরাঙ্গকে এক অনন্য উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী। নৌকা থেকে নামার সময় আপ্লুত মোদি জড়িয়ে ধরেন সাধারণ এই মাঝিকে। সেই অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়ে গৌরাঙ্গ বলেন, “আমি তো অভিভূত, মনে হচ্ছিল স্বপ্ন দেখছি। উনি নিজের ক্যামেরা নিয়েই নৌকায় উঠেছিলেন। আমাকে বললেন মাঝগঙ্গায় নৌকা নিয়ে যেতে। ওনার নির্দেশেই নৌকা চালিয়েছি। উনি ছবিও তুললেন আবার গল্পও করলেন।” শুধু তাই নয়, গৌরাঙ্গর দাবি, দেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁকে সকলের সঙ্গে মিলেমিশে থাকার পরামর্শও দিয়েছেন।

গৌরাঙ্গর এই সাফল্যে এখন খুশির হাওয়া প্রিন্সেপ ঘাটের মাঝিমহলে। তাঁর নৌকা মালিক ইফতিকার আহমেদও এই ঘটনায় গর্বিত। সাধারণ এক শ্রমিকের নৌকায় চড়ে প্রধানমন্ত্রী যে সম্প্রীতি ও সরলতার বার্তা দিলেন, তা এখন তিলোত্তমার অলিতে-গলিতে চর্চার বিষয়। রাতারাতি ‘হিরো’ হয়ে যাওয়া গৌরাঙ্গকে ঘিরে এখন ঘাটে মানুষের ভিড়, সবার একটাই আবদার, “মোদি কী বললেন, আর একবার শোনাও তো ভাই!”

Related Articles