খেলা

স্নিকোমিটার বিতর্কে ক্রিকেট মহলে উত্তেজনা, হস্তক্ষেপ আইসিসির

জশ টংয়ের বল ক্যারির ব্যাট ছুঁয়ে ইংল্যান্ডের উইকেটকিপার জেমি স্মিথের হাতে ধরা পড়ে বলে দাবি করে ইংল্যান্ড।

Truth Of Bengal: অ্যাশেজ সিরিজের তৃতীয় টেস্টে প্রযুক্তিগত বিতর্কে উত্তাল ক্রিকেট দুনিয়া। অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়া বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচে ‘স্নিকোমিটার’ ব্যবহারের ত্রুটিকে কেন্দ্র করে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করল ইংল্যান্ড শিবির। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে অস্ট্রেলিয়ার উইকেটরক্ষক ব্যাটার অ্যালেক্স ক্যারির আউট না হওয়া, যা ম্যাচের গতিপথই বদলে দিয়েছে বলে মনে করছে বেন স্টোকসের দল।

ঘটনাটি ঘটে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের ৬৩তম ওভারে। তখন ৭২ রানে অপরাজিত ক্যারি। জশ টংয়ের বল ক্যারির ব্যাট ছুঁয়ে ইংল্যান্ডের উইকেটকিপার জেমি স্মিথের হাতে ধরা পড়ে বলে দাবি করে ইংল্যান্ড। মাঠের আম্পায়ার আউট না দেওয়ায় ডিআরএস নেয় ইংল্যান্ড। তৃতীয় আম্পায়ার স্নিকোমিটারের রিপ্লে দেখেন। অদ্ভুতভাবে ব্যাটে বল লাগার আগেই রেখাচিত্রে কম্পন দেখা গেলেও, ব্যাটের পাশ দিয়ে বল যাওয়ার সময় কোনও স্পাইক ধরা পড়েনি। সেই কারণেই আউট দেওয়া হয়নি ক্যারিকে। উল্টে ইংল্যান্ডকে হারাতে হয় একটি রিভিউ।

এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি বেন স্টোকসরা। ইংল্যান্ড শিবিরের দাবি, স্নিকোমিটারের প্রযুক্তিতেই সমস্যা ছিল। এমনকি ম্যাচের পর ক্যারিও স্বীকার করেন, বল তাঁর ব্যাটের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় শব্দ হয়েছিল এবং ভাগ্যের জোরেই তিনি বেঁচে যান। পরে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শতরান করে অস্ট্রেলিয়াকে বড় স্কোরে পৌঁছে দেন ক্যারি।বিতর্ক এতটাই তীব্র হয় যে, ইংল্যান্ড শিবির ম্যাচ রেফারির কাছে সরকারিভাবে অভিযোগ জানানোর কথা ভাবে। খেলার পর ইংল্যান্ডের কোচ ব্রেন্ডন ম্যাকালাম ও ম্যানেজার ওয়েন বেন্টলি ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রো-র সঙ্গে কথা বলেন এবং বিষয়টি আইসিসির নজরে আনেন। শেষ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করে আইসিসি। ইংল্যান্ডের নষ্ট হয়ে যাওয়া রিভিউ ফিরিয়ে দেওয়া হয়।এদিকে ‘স্নিকোমিটার’-এর নির্মাতা সংস্থা বিবিজি স্পোর্টস একটি বিবৃতিতে ক্ষমা চেয়েছে। তারা জানিয়েছে, রিপ্লে দেখানোর সময় ভুল স্টাম্প মাইক ব্যবহার করা হয়েছিল। অপারেটরের ভুলেই এই প্রযুক্তিগত বিভ্রান্তি তৈরি হয় বলে স্বীকার করেছে সংস্থাটি।

বিতর্ক এখানেই থামেনি। বৃহস্পতিবারও স্নিকো সিদ্ধান্ত ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্টোকস। ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের সময় প্যাট কামিন্সের বলে জেমি স্মিথ ক্যাচ দিলে স্নিকোমিটারে ব্যাটের পাশ দিয়ে বল যাওয়ার সময় কম্পন ধরা পড়ে। সেই ক্ষেত্রে তৃতীয় আম্পায়ার আউট দেন। দু’টি ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে যাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন অধিনায়ক স্টোকস।

ম্যাচের অবস্থার দিকে তাকালে, ক্যারির শতরানের সৌজন্যে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে তোলে ৩৭১ রান। জবাবে ইংল্যান্ড চাপের মুখে। তারা ৮ উইকেটে ২১৩ রান করেছে। অপরাজিত রয়েছেন বেন স্টোকস (৪৫) ও জোফরা আর্চার (৩০)। এখনও ১৫৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড। সিরিজে ইতিমধ্যেই ২–০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা স্টোকসদের জন্য এই বিতর্ক চাপ আরও বাড়াল বলেই মনে করছে ক্রিকেট মহল।