
The Truth of Bengal: একটা বাস। যাত্রী ২৬ জন (বাড়তেও পারে)। গন্তব্য নির্দিষ্ট। প্রত্যেকেই বাস চালাতে পারেন। প্রশ্ন, সবাই মিলে কি বাসটি চালাবেন? নাকি নির্দিষ্ট কেউ একজন স্টিয়ারিং ধরবেন? সবাই বাসটি চালানোর চেষ্টা করলে চাকা গড়াবে না। অভিজ্ঞ কোনও হাতে স্টিয়ারিং দিয়ে বাকিরা যে যার আসনে বসে থাকলে বাসটি আপন গতিতে এগিয়ে চলবে। পৌঁছে যাবে নির্দিষ্ট গন্তব্যে। সবাই যেহেতু বাস চালাতে জানেন, প্রয়োজনে যার হাতে স্টিয়ারিং তাঁকে পরামর্শ দিতে পারেন প্রত্যেকেই। ঐকমত্যের ভিত্তিতে সেই ‘জার্নি’ হতে পারে সফল। আর স্টিয়ারিং কার দখলে থাকবে, এই নিয়ে যদি বিরোধ বাধে, তা হলে যাত্রাই শুরু হবে না। গন্তব্য থাকবে অধরা।
বিজেপিকে মোকাবিলায় বিরোধী বড় বড় শক্তি মিলিত ভাবে ‘INDIA’ জোট গড়েছে। সেই জোটের ইতিমধ্যে দুটি মিটিং হয়ে গিয়েছে। তৃতীয় মিটিং আসন্ন। যেখানে বিজেপিকে মোকাবিলার যাবতীয় রণকৌশল চূড়ান্ত হয়ে যাবে। মুম্বইয়ে হতে চলা সেই তৃতীয় বৈঠকের দিকে এখন নজর সবার। ‘INDIA’ জোট যদি বাস হয়, তা হলে সেই বাসের ‘স্টিয়ারিং’ থাকবে কার হাতে? এখনও এই প্রশ্নের ফয়সালা হয়নি। জোটের বড় কয়েকটি শরিক দল কমবেশি সমান ক্ষমতাসম্পন্ন। বাকিরা শক্তিতে কিছুটা পিছিয়ে। ২৬টি দল নিয়ে যখন জোট হয়েছে, তখন মিলিত ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এটাই স্বাভাবিক বা এটাই নিয়ম। কার হাতে থাকবে ইন্ডিয়া জোটের স্টিয়ারিং? জোটকে মসৃণ ভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে কোনও একজনের হাতে ‘স্টিয়ারিং’ থাকা আবশ্যক। সবাই যখন বাসটি চালাতে জানেন, তখন ‘স্টিয়ারিং’ যার হতে থাকবে, তিনি নিশ্চয়ই নিজের ইচ্ছামতো বাস চালাবেন না।
অনেক বড় বড় নাম আছে। অনেকেই দাবিদার আছেন। কাউকে একজনকে তো সামনে রাখতে হবে। কাকে সামনে রাখবে ‘INDIA’ জোট। অভিজ্ঞতা, বিজেপি বিরোধিতা, প্রভাব এবং দেশব্যাপী পরিচিতির জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে যোগ্য কেউ কি আছেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজেপি বিরোধিতা নিয়ে কারও কোনও প্রশ্ন নেই। গোটা দেশব্যাপী তাঁর প্রভাব-পরিচিতি নিয়েও কোনও প্রশ্ন নেই। জোটের বড় বড় দলের শীর্ষনেতাদের মধ্যে ধারে-ভারে সবার থেকে এগিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্র এবং রাজ্য মিলিয়ে তাঁর তিন দশকের রাজনৈতিক কেরিয়ার সেটাই প্রমাণ করছে।
কংগ্রেসের রাহুল গান্ধি বিজেপিকে মোকাবিলায় সফল হতে পারেননি। সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদবও বিজেপির বিরুদ্ধে কিছু করে উঠতে পারছেন না। জেডিইউ-এর নীতীশ কুমার বিজেপির সঙ্গ ত্যাগ করলেও বিহারে একার শক্তিতে খুব ভাল জায়গায় নেই। দলের ভাঙনে শিবসেনার উদ্ধব-গোষ্ঠী ও এনসিপি-র শরদ পাওয়ার এখন কোণঠাসা। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার দেখিয়ে দিয়েছেন তাঁর বিজেপি বিরোধিতার জোর। ২০১৪ সাল থেকে কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্ব এই রাজ্যকে ‘পাখির চোখ’ করে ঝাঁপিয়ে পড়লেও মমতার বিরুদ্ধে এঁটে উঠছে না। দিল্লির সর্বশক্তি প্রয়োগ করেও এই রাজ্যে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে প্রবল শক্তিধর বিজেপিকে কার্যত একাই রুখে দিয়ে আবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রমাণ করেছেন তাঁর প্রভাব-প্রতিপত্তি।
‘INDIA’ জোটের নেতারা সর্বভারতীয়স্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুরুত্ব অস্বীকার করেন না। তাঁদের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুরুত্ব অন্যরকম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সেই ইতিবাচক মনোভাব বারবার দেখিয়েছেন জোটের নেতারা। বিজেপি বিরোধিতায় তিনি কতটা সফল, সেটা আর তাঁকে প্রমাণ দিতে হবে না। একাধিকবার সেই প্রমাণ পেয়েছে দেশ। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে ‘INDIA’ জোটের ‘স্টিয়ারিং’ থাকা নিয়ে কোনও সংশয় থাকা উচিত নয়। ধারে-ভারে পোড়খাওয়া রাজনীতিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাব কতটা, সেটা একাধিকবার হাড়েহাড়ে প্রমাণ পেয়েছে বিজেপি। এই কথাটি শরিকরা যদি সেটা বোঝেন, তা হলে মঙ্গল ‘INDIA’ জোটের জন্য। অভিজ্ঞ হাতে ‘INDIA’ জোটের ‘স্টিয়ারিং’ ধরতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে যোগ্য কেউ কি আছেন?






