Letter: যে চিঠি ঠিকানায় পৌঁছায় না সেই চিঠির খবর রাখে কে?
প্রাচীনকালে যখন কাগজ বা আধুনিক মাধ্যম ছিল না, তখন মানুষ গাছের ছাল, পাতা, পশুর চামড়া বা পাথরে খোদাই করে মনের ভাব প্রকাশ করত।
Truth Of Bengal: “কত চিঠি লেখে লােকে—
কত সুখে, প্রেমে, আবেগে, স্মৃতিতে, কতাে দুঃখে ও শােকে”
চিঠি। একটা সময় মানবজীবনে জীবনের তরঙ্গের সঙ্গে সমান সরলরেখায় চলতো। তখন হাতে হাতে মুঠোফোন আসেনি। এমনকি ঘরে ঘরে রিসিভার ফোনও ঢোকেনি। তখন ভরসা ছিল এই চিঠি। কত হাসি-কান্না, চাওয়া-পাওয়া, ভালবাসা-গভীরতা চিঠির পাতায় লেখা হয়ে থাকতো। যোগাযোগের মাধ্যম এই চিঠি। আবার বহু বিভ্রাটের ঘটনাও ঘটে। অনেক চিঠি পৌঁছায় না গন্তব্যে। এমন অনেক প্রবাদ এই চিঠি নিয়ে রয়েছে যা মজার মজার গল্প হয়ে আছে। এক ভদ্রলোক তার ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছিলেন ডাকে। এই চিঠি (Letter) নাকি গন্তব্যে পৌঁছেছিল তার নাতির অন্নপ্রাশনের দিন। আবার সেই চিঠি বা পৌঁছেছিল, এমন অনেক চিঠি শেষ পর্যন্ত গন্তব্যেই পৌঁছায়নি। তাহলে সেই চিঠির ভবিষ্যৎ কী? আবার অনেক চিঠি নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছেও ফিরে আসে। খোঁজ মেলে না গ্রহীতার। সেই চিঠিতে যদি প্রেরকের ঠিকানা না থাকে তাহলে তার ঠিকানা কী হয়? আজ চেনা বাংলার অজানা কথায় তুলে ধরবো সেই ঠিকানার সন্ধান। হ্যাঁ, গ্রহীতাকে খুঁজে না পাওয়া এবং প্রেরকের সন্ধান না পাওয়া চিঠির ঠিকানাও আছে। সেই চিঠিতেও কত কথা না জানা থেকে গিয়েছে। এই চিঠির ঠিকানা আছে এই মহানগরীতে। তিলোত্তমা কলকাতায়।
[আরও পড়ুন:Temple History: স্ত্রীর অনুরোধে শিবমন্দির তৈরি করেছিলেন রাজা হরিশ্চন্দ্র, ইতিহাসের সাক্ষী বরাকরের মন্দির ]
প্রাচীনকালে যখন কাগজ বা আধুনিক মাধ্যম ছিল না, তখন মানুষ গাছের ছাল, পাতা, পশুর চামড়া বা পাথরে খোদাই করে মনের ভাব প্রকাশ করত। সে সময় তথ্য, খবর ও শুভেচ্ছা জানাতেই চিঠি লেখা হয়ে থাকত। প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার পাশাপাশি প্রাচীন রোম, মিশর এমনকি চিনা সভ্যতাতেও চিঠির ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মধ্যযুগে কাগজ ও কালির আবিষ্কারের পর তারমাধ্যমে চিঠি লেখার প্রচলন শুরু হয়। আধুনিক সময় ডাক ব্যবস্থার প্রচলনের পর চিঠি লেখা ও তা পাঠানো আরও সহজ হয়ে উঠেছে। এখন ডিজিটাল যুগে সেভাবে কাগুজে চিঠি লেখার প্রচলন না থাকলেও চিঠি লেখা কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি। কাগজের মাধ্যমেই হোক কিংবা ইমেইল মারফত ডিজিটাল পদ্ধতিতে চিঠি লেখার চল কিন্তু বহাল তবিয়তে আছে। কিন্তু ঠিকানার গন্ডগোলে হোক কিংবা ডাক ব্যবস্থার অসুবিধার কারণে অনেক সময় অনেক চিঠি নির্দিষ্ট গন্তব্যে বা রিসিভারের কাছে পৌঁছোয় না।(Letter)
জানেন কি সেই সব চিঠির কী হয়? আমাদের প্রিয় শহর কল্লোলিনী তিলোত্তমা কলকাতার পরতে পরতে কত অজানা অচেনা ইতিহাস জড়িয়ে আছে। শহর কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলার ডালহৌসিতে রয়েছে ‘ওল্ড টেলিগ্রাফ অফিস’। খাতায় কলমে এই ভবনের নাম ডেড লেটার অফিস। ১৮৭৬ সালে ব্রিটিশ আমলে এই হেরিটেজ ভবন গড়ে ওঠে। এটি ভারতের প্রথম ডেড লেটার অফিস। এটি টেলিগ্রাফ অফিস চত্বরের সবচেয়ে পুরনো ভবন। লর্ড লিটন ভারতের গভর্নর জেনারেল থাকার সময় এই ভবন গড়ে ওঠে। যে সব চিঠি বা পার্সেল রিসিভারের কাছে পৌঁছোয় না নানান কারণে তা হাত ঘুরে এই ডেড লেটার অফিসে এসে পৌঁছোয়। দফতরের কর্মীরা রিসিভারের কাছে না পৌঁছনো চিঠির খাম খুলে সেই চিঠি বের করেন। চিঠিতে যদি রিটার্ন অ্যাড্রেস বা চিঠি ফেরত পাঠানোর ঠিকানা থাকে তাহলে সেই ঠিকানায় চিঠি ফেরত চলে যায়। যদি কোনো ঠিকানা না থাকে তাহলে চিঠির ভেতরে থাকা প্রেরকের নামধাম, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বা রেকর্ডের তত্ত্বতালাস খুঁজে ঠিকানা বের করার চেষ্টা করা হয়। সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে এক মাস পর সাধারণ চিঠি নষ্ট করে ফেলা হয়। দাবিদারহীন রেজিস্টার্ড আইটেম বা চিঠি ৩ মাস রাখার পর নষ্ট করে ফেলা হয় অথবা অকশন হাউজে নিলামের জন্য বিক্রি করে দেওয়া হয়।(Letter)
লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal
ব্রিটিশ আমলে তৈরি কলোনিয়াল শৈলীতে নির্মিত ডালহৌসি চত্বরের হেরিটেজ বহুতল ভবনের নাম ১৯৫৯ সালে বদলে ডেড লেটার অফিস থেকে রিটার্ন লেটার অফিসেস (RLOs) রাখা হয়। বহুতলের মাথায় রয়েছে ঘড়িবিহীন ১২০ ফুট উঁচু বেল টাওয়ার।
চিঠির মর্গ বলে পরিচিত ডালহৌসি স্ক্যোয়ার চত্বরে অবস্থিত এই হেরিটেজ ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৮৬৮ সাল থেকে। ১৮৭৬ সালে কাজ শেষ হয়। সেন্ট্রাল টেলিগ্রাফ অফিসের নতুন ভবন তৈরি হয় ১৯১৪ সালে। ব্রিটিশ আমলে বিদেশ থেকে বাংলায় আসা সব চিঠি প্রেরকের ঠিকানায় পাঠানোর আগে এই ভবনে আসত। এখান থেকে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে প্রেরকের কাছে পৌঁছে যেত চিঠি। কিন্তু অনেক সময় ডাকঘর থেকে নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছনো যেত না চিঠি। কোনো সময় ঠিকানা ভুল বা অসম্পূর্ণ থাকত। কোনো সময় যাঁর কাছে চিঠি পাঠানো হবে সেই রিসিভার অন্য ঠিকানায় চলে গেছেন তাই চিঠি তাঁর কাছে পাঠানো সম্ভব হয়নি। আবার অনেক সময় যিনি প্রেরক, তাঁর নাম, ঠিকানা ঠিকঠাক থাকে না সেই সব চিঠির বা পার্সেলের গন্তব্য হয় এই চিঠির মর্গে। ডাক কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে চিঠি কুচুকুচি করে কেটে ফেলা হয়। আগে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হত। নিলামে তোলা পার্সেলের জিনিসপত্র বেচে নগদ অর্থ, চেক বা ডিমান্ড ড্রাফ্ট জমা থাকে আনক্লাসিফায়েড রিসিপ্ট সেকশনে।(Letter)
হাইলাইট- সেন্ট্রাল টেলিগ্রাফ অফিসের নতুন ভবন তৈরি হয় ১৯১৪ সালে। ব্রিটিশ আমলে বিদেশ থেকে বাংলায় আসা সব চিঠি প্রেরকের ঠিকানায় পাঠানোর আগে এই ভবনে আসত। এখান থেকে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে প্রেরকের কাছে পৌঁছে যেত চিঠি। কিন্তু অনেক সময় ডাকঘর থেকে নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছনো যেত না চিঠি। কোনো সময় ঠিকানা ভুল বা অসম্পূর্ণ থাকত। কোনো সময় যাঁর কাছে চিঠি পাঠানো হবে সেই রিসিভার অন্য ঠিকানায় চলে গেছেন তাই চিঠি তাঁর কাছে পাঠানো সম্ভব হয়নি। আবার অনেক সময় যিনি প্রেরক, তাঁর নাম, ঠিকানা ঠিকঠাক থাকে না সেই সব চিঠির বা পার্সেলের গন্তব্য হয় এই চিঠির মর্গে। ডাক কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে চিঠি কুচুকুচি করে কেটে ফেলা হয়। আগে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হত। নিলামে তোলা পার্সেলের জিনিসপত্র বেচে নগদ অর্থ, চেক বা ডিমান্ড ড্রাফ্ট জমা থাকে আনক্লাসিফায়েড রিসিপ্ট সেকশনে।(Letter)





