“ডায়েরিতে লিখে রাখুন, সুদ-সমেত ফেরত দেব!” শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে চরম হুঁশিয়ারি অভিষেকের
তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা করা হলে ভবিষ্যতে তার জবাব দেওয়া হবে ‘সুদ-সমেত’
Truth of Bengal: ভোটের ময়দানে ধাক্কা, একের পর এক মামলার চাপ—তার পরেও সুর নরম করলেন না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বরং শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে বিরোধীদের উদ্দেশে আরও চড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা করা হলে ভবিষ্যতে তার জবাব দেওয়া হবে ‘সুদ-সমেত’। মঙ্গলবার কলকাতার তারামণ্ডলের কাছে শহিদ দিবসের সমাবেশের আয়োজন করে ‘কালীঘাট’ তৃণমূল। সেই সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বলেন, “মিথ্যা মামলা দিলে ডায়েরিতে লিখে রাখুন, সুদ-সমেত ফেরত দেব। যারা যে ভাষা বোঝে, তাদের সেই ভাষাতেই জবাব দেওয়া হবে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, সাংসদের বক্তব্যে প্রচ্ছন্ন হুমকির সুর রয়েছে।
একই দিনে তারামণ্ডলের সভাস্থল থেকে কিছুটা দূরে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে সমাবেশ করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূল। সেই সভার জনসমাগম নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, “যাঁরা নিজেদের তৃণমূল বলে দাবি করতেন, মেয়ো রোডে তাঁদের সভায় যত লোক রয়েছে, গ্রামে জেসিবি দিয়ে মাটি কাটার সময় তার থেকেও বেশি মানুষ জড়ো হন।” এরপর প্রশ্ন ছুড়ে অভিষেক বলেন, “কর্মী কোথায়? জনতা কোথায়?” তাঁর দাবি, তৃণমূলের প্রকৃত শক্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলীয় কর্মী-সমর্থকদের আস্থা এখনও তাঁর সঙ্গেই রয়েছে। অভিষেকের কথায়, “মমতা যেখানে, জনতা সেখানে। তৃণমূলের শিকড়ের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”
দলত্যাগী ও বিদ্রোহী নেতাদেরও কড়া বার্তা দেন তিনি। অভিষেকের দাবি, কেউ বিশ্বাসঘাতকতা করে তৃণমূলকে দুর্বল করার চেষ্টা করলে তার উল্টো ফল হবে। তাঁর বক্তব্য, “কেউ যদি ভাবে গদ্দারি বা বেইমানি করে দলকে দুর্বল করবে, তাহলে তৃণমূল কংগ্রেস আরও শক্তিশালী হবে।” একদিকে পালটা সভা, অন্যদিকে আক্রমণাত্মক ভাষণ—শহিদ দিবসকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের দুই শিবিরের সংঘাত এদিন আরও প্রকাশ্যে এল।






