
The Truth of Bengal,Mou Basu: মোটেও ফেলনা, তুচ্ছ নয় কমলালেবুর খোসা। বরং আস্ত কমলালেবুর চেয়েও বেশি উপকারী কমলালেবুর খোসা। রোগ প্রতিরোধ শক্তিতে ভরপুর ওপরের আস্তরণটি। খনিজ পদার্থ, ভিটামিনে সমৃদ্ধ কমলালেবুর খোসা তাই ফেলে না দিয়ে খাওয়া উচিত। জলের মধ্যে কমলালেবুর খোসার গুঁড়ো দিয়ে কিছুক্ষণ ফোটান। গরম জলের ভাপ বা স্টিম নিলে মাথার যন্ত্রণা থেকে উপশম মেলে। চিনা হার্বাল ওষুধে কমলালেবুর খোসা রক্তচাপ কমানোর ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করা হয়। কপালে খোসা থেকে উৎপন্ন অরেঞ্জ অয়েল লাগিয়ে মাসাজ করলে ডিপ্রেশন আর মানসিক উত্তেজনা কমে। কমলালেবুর খোসায় থাকায় লিমোনিন, ডেকানাল, সাইট্রালের মতো পদার্থ চোখের স্বাস্থ্যর জন্য খুবই জরুরি। এসব পদার্থ যাবতীয় চোখের সংক্রমণ রুখে দৃষ্টিশক্তি বাড়িয়ে তোলে।
আশ্চর্য হলেও সত্যি একটা আস্ত কমলালেবুতে যে পুষ্টি মেলে, তার ৪ গুণ বেশি পুষ্টি মেলে লেবুর খোসায়। আমরা জানি রসে টুইটম্বুর কমলালেবুতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। ভিটামিন সি ছাড়াও প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও পলিফেনলে সমৃদ্ধ কমলালেবুর খোসা। আমাদের দৈনন্দিন যে পরিমাণ ভিটামিন সি’র প্রয়োজন তার ১৪% পাওয়া যায় মাত্র ১ চামচ (৬ গ্রাম) কমলালেবুর খোসায়। একটা গোটা ফলের থেকে যে পরিমাণ ভিটামিন সি পাওয়া যায়, তার ৩ গুণ মেলে মাত্র এক চামচ খোসা থেকে। ফলের চেয়েও ৪ গুণ বেশি ফাইবার পাওয়া যায় খোসায়। গবেষণায় দেখা গেছে ভিটামিন সি ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার হার্ট ও ডাইজেস্টিভ সিস্টেম বা পাচন ক্রিয়াকে ভালো রাখে।
বিভিন্ন রকমের ক্যানসার রোধ করতেও সক্ষম। কমলালেবুর খোসায় আছে প্রচুর পরিমাণে প্রোভিটামিন এ, ফোলেট, রাইবোফ্লেভিন, থায়ামিন, ভিটামিন বি৬ আর ক্যালসিয়াম। এছাড়া আছে প্রচুর পরিমাণে পলিফেনল যা ডায়াবেটিস, স্থুলতা, অ্যালজাইমার্স প্রতিরোধ করতে সক্ষম। গবেষণায় দেখা গেছে ফলের চেয়েও বেশি পলিফেনল আছে কমলালেবুর খোসায়। ক্যানসার প্রতিরোধকারী পলিফেনল হেসপেরিডিন আর পলিমেথোক্সিফ্ল্যাভোনস আছে খোসায়। কমলালেবুর খোসা থেকে যে পরিমাণ এসেন্সিয়াল অয়েল পাওয়া যায় তার ৯০% তৈরি হয়েছে লিমোনিন নামে একটি পদার্থ দিয়ে। ত্বকের ক্যানসার প্রতিরোধ করে লিমোনিন। কমলালেবুর খোসায় আছে ফাইটোকেমিক্যালস আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্ল্যাভোনয়েডস যা ক্যানসার ও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া ঠেকায়। এছাড়া আছে তামা, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন এ ও ডায়েটারি ফাইবার।
কমলালেবুর খোসায় আছে হেসপেরিডিন যা রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
ওষুধের চেয়েও কোলেস্টেরল কমাতে সক্ষম খোসায় থাকা পলিমিথক্সিলেটেড ফ্লেভোনস। যা প্রচুর পরিমাণে আছে কমলালেবুর খোসায়। অ্যালার্জির জন্য দায়ী হিস্টামিন নামে এক রাসায়নিক। কমলালেবুর খোসায় আছে এমন পদার্থ যা হিস্টামিনের নিঃসারণ নিয়ন্ত্রণ করে। ত্বকের ক্যানসার সৃষ্টিকারী ক্ষতিকারক কার্সিনোমা কোষের বৃদ্ধি আটকায় কমলালেবুর খোসা। যারা নিয়মিত কমলালেবু খান তাঁদের ফুসফুসের ও ত্বকের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।
কমলালেবুর খোসা বাড়তি মেদ বা ফ্যাট ঝরাতে সক্ষম। অ্যান্টি-ইনফ্লেমটরি পদার্থ আছে বলে কমলালেবুর খোসা ডায়রিয়া, বুক জ্বালা, হজমের গণ্ডগোল, অ্যাসিডিটি প্রতিরোধ করে।
মদ্যপানের হ্যাঙওভার কাটাতে সবচেয়ে ভালো উপায় হল ১৫-২০ মিনিট ধরে জলে খোসার গুঁড়ো ফুটিয়ে চায়ের মতো খাওয়া।
দাঁতের ক্যাভিটিজের বিরুদ্ধে লড়াই করে ও মুখের দুর্গন্ধ দূর করে কমলালেবুর খোসা। ভিটামিন এ ও সি’র মতো প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকায় কমলালেবুর খোসা খেলে রোগ প্রতিরোধকারী ক্ষমতা বাড়ে। যে কোনো জীবাণু সংক্রমণ ঠেকাতে পারে কমলালেবুর খোসা।
ব্ল্যাকহেডস, মৃত কোষ, ব্রণ, ডার্ক সেলস, ড্রাই স্কিনের মতো ত্বকের সমস্যার অব্যার্থ ওষুধ এই কমলালেবুর খোসা।
কমলালেবুর খোসায় আছে পেক্টিন নামে একটি ফাইবার যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ডায়াবেটিস রোগীর জন্য খুবই উপকারী কমলালেবুর খোসা।
অ্যাজমার সমস্যাও আটকাতে পারে খোসা। ত্বকের ফোলাভাব কমাতে সক্ষম কমলালেবুর খোসা।
অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল গুণ থাকায় কমলালেবুর খোসা দাঁতে জীবাণু সংক্রমণ ঠেকাতে পারে। দাঁতের হলদে ভাব দূর করে সাদা ভাব ফিরিয়ে আনে কমলালেবুর খোসা। লিমোনিন প্রাকৃতিক সেন্ট ও সলভেন্ট হিসাবে কাজ করে। লিমোনিন থাকায় কমলালেবুর খোসা প্রাকৃতিক ভাবে দাঁতের হলদে ছোপ দূর করে সাদা ভাব ফিরিয়ে আনে।
দুধ বা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে কমলালেবুর খোসা লাগালে ট্যান দূর করে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ফিরিয়ে আনে।
কমলালেবুর খোসায় আছে নবিলটিন নামে এক পদার্থ যা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমায়। এছাড়া খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।
শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যার পাশাপাশি ব্রেস্ট, ত্বক, কোলোরেক্টাল ক্যানসারও প্রতিরোধ করে কমলালেবুর খোসা।
খোসায় আছে প্রচুর পরিমাণে নন-সলিউবল পলিস্যাকারাইড যা কোষ্ঠকাঠিণ্য, বমি বমি ভাব, পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরির প্রবণতা কমায়।
স্বাস্থ্যকর ত্বক পেতে কমলালেবুর খোসা ফেস মাস্ক হিসাবে ব্যবহার করা উচিত। এই মাস্ক মৃত কোষ দূর করে আর অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব দূর করে।
এছাড়া জুতোর তাকে বাজে গন্ধ দূর করতে একটা ঠোঙায় ভরে রাখুন অল্প পরিমাণে কমলালেবুর খোসা। সুন্দর গন্ধে চারিদিকে ম ম করবে।
কমলালেবুর খোসার সাইট্রাস স্মেল মশা, মাছি, পিঁপড়ে, পোকামাকড় দূর করে। এমনকী বেড়ালও তাড়ায়। ঘরের পোষ্য বেড়াল অনেক সময় কাপড়জামা ছিঁড়ে দিয়ে উৎপাত জুড়ে। সেক্ষেত্রে জিনিসপত্রের ওপর কমলালেবুর খোসা ঘষে দিলে বেড়াল কামড়াবে না।
খোসার সঙ্গে কিছুটা অল্প পরিমাণে ভিনিগার মিশিয়ে ইস্পাত বা কাঠের আসবাবপত্র পরিষ্কার করা যায় ভালো ভাবে।






