কুয়াশার দাপটের সঙ্গেই পারদ চড়ার পূর্বাভাস, শীত কি তবে বিদায়ের পথে?
ভোরের দিকে বা সন্ধ্যার পর হালকা শিরশিরানি থাকলেও, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের তেজে শীতের অনুভূতি ফিকে হয়ে আসছে।
Truth Of Bengal: মাঘের মাঝামাঝি সময়েই বাংলা থেকে কার্যত বিদায় নিতে চলেছে শীত। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজ্যের সর্বত্রই শীতের তীব্রতা অনেকটা কমেছে। ভোরের দিকে বা সন্ধ্যার পর হালকা শিরশিরানি থাকলেও, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের তেজে শীতের অনুভূতি ফিকে হয়ে আসছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, প্রকৃতির এই মেজাজ আসলে বসন্তের আগমনেরই আগাম বার্তা। বর্তমানে জাঁকিয়ে শীতের বদলে হালকা গরম পোশাকেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন সাধারণ মানুষ। সরস্বতী পুজোর সময় তাপমাত্রার পারদ কিছুটা নিম্নমুখী হলেও, বর্তমানে তা ফের স্বাভাবিকের উপরে উঠে গিয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহ তাপমাত্রার বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
মঙ্গলবার আকাশ মূলত পরিষ্কার থাকবে বলেই জানানো হয়েছে। তবে শীত বিদায়ের এই সন্ধিক্ষণে কুয়াশার দাপট বজায় রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের দুই ২৪ পরগনা, মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানে ভোরের দিকে কুয়াশার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় দৃশ্যমানতা ২০০ মিটারে নেমে আসতে পারে। মঙ্গলবারের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দিনের বেলা গরম অনুভূত হলেও ভোরের দিকে কুয়াশাচ্ছন্ন থাকবে চারপাশ।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের চিত্রটা কিছুটা আলাদা। সমতলে শীত কমলেও পাহাড় এখনও বরফশীতল। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুরে ঘন কুয়াশার কারণে ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি করেছে হাওয়া অফিস। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারে নেমে আসার আশঙ্কা থাকায় যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সোমবার পাহাড়ের রানী দার্জিলিংয়ের তাপমাত্রা ছিল ৩.০৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যেখানে দক্ষিণবঙ্গের শীতলতম স্থান সিউড়িতে পারদ দাঁড়িয়েছিল ১২ ডিগ্রিতে।
কলকাতাতেও শীতের আমেজ এখন অনেকটাই ম্লান। সোমবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫.০৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬.০৬ ডিগ্রি। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় ভোরের দিকে ধোঁয়াশা ও কুয়াশা তৈরি হচ্ছে। সব মিলিয়ে সমতলের কোথাও তাপমাত্রা বর্তমানে ‘সিঙ্গেল ডিজিট’ বা ১০ ডিগ্রির নিচে নেই। উত্তুরে হাওয়ার প্রভাব কমে আসায় এখন কেবল বসন্তের হালকা হাওয়ার অপেক্ষাতেই দিন গুনছে বঙ্গবাসী।





