কলকাতা

মমতার পর শাখাওয়াত মেমোরিয়ালে শুভেন্দু! স্ট্রংরুমে মুখ্যমন্ত্রীর ৪ ঘণ্টার পাহারা নিয়ে কমিশনকে তোপ

গণনার আগে স্ট্রংরুম ঘিরে রাজনৈতিক তরজা! ভবানীপুরের ‘কুরুক্ষেত্র’ কি তবে এখন শাখাওয়াত মেমোরিয়াল?

Truth of Bengal: ভোটের ফলপ্রকাশের ঠিক আগে স্ট্রংরুমকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতির পারদ চড়ছে অস্বাভাবিক গতিতে। বৃহস্পতিবার রাতে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৪ ঘণ্টার নাটকীয় অবস্থানের রেশ কাটতে না কাটতেই, শুক্রবার বিকেলে শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রে পৌঁছে গেলেন ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে ইভিএম কারচুপির আশঙ্কা, অন্যদিকে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, সব মিলিয়ে ভবানীপুরের স্ট্রংরুম এখন রাজ্যের নজরবিন্দুতে।

গণনাকেন্দ্র পরিদর্শন করে শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি নিশানা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মুখ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার রাতে যেভাবে ৪ ঘণ্টা স্ট্রংরুমের ভেতরে অবস্থান করেছিলেন, তার তীব্র সমালোচনা করে শুভেন্দু বলেন, “৪ ঘণ্টা কেউ স্ট্রংরুমে থাকতে পারে না। এখানকার আধিকারিকরা নিয়ম বহির্ভূত কাজ করেছেন।” তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীকে এভাবে দীর্ঘ সময় থাকার অনুমতি দিয়ে প্রশাসন পক্ষপাতিত্বের পরিচয় দিয়েছে।

গণনার আবহে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আমাদের কাছে নিরাপত্তা বাহিনী রয়েছে। বুলেট প্রুফ গাড়ি রয়েছে। আমাদের কিছু হয় না, কিন্তু নিচুস্তরের কর্মীদের উপর অত্যাচার হয়। মানুষের রায় মেনে নিয়ে হিংসা বন্ধ হওয়া উচিত।”

উল্লেখ্য, ইভিএমে কারচুপির আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার বিকেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় প্রার্থীদের স্ট্রংরুম পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী রাত ৮টা নাগাদ বৃষ্টি মাথায় নিয়েই তিনি পৌঁছে যান শাখাওয়াত মেমোরিয়ালে। দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা তিনি সেখানে অবস্থান করেন। এই অবস্থান নিয়ে বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের তীব্র বাদানুবাদ হয়। মমতা দাবি করেন, “বাইরের লোক পোস্টাল ব্যালট এদিক-ওদিক করছে।” এমনকি বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে এক ‘গুজরাটি যুবক’-এর উপস্থিতিকে ঘিরেও মমতা ক্ষোভ উগড়ে দেন।

মমতার এই অবস্থানকে ‘নিয়ম বহির্ভূত’ বলে দাবি করে বিজেপি। আর শুক্রবার শুভেন্দুর এই পাল্টা সফর সেই রাজনৈতিক লড়াইকে আরও জোরালো করল। ৪ মে ভবানীপুরের রায় কী হয়, তার আগেই স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা এবং আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়ে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর এই দ্বৈরথ এখন রাজ্য রাজনীতির চর্চার কেন্দ্রে। কমিশন এই টানাপোড়েন মোকাবিলায় শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Related Articles