NRS Hospital: এনআরএস-এ বিরল ফুসফুস রোগ PAP-এর জটিল ‘হোল লাং ল্যাভেজ’ সফল
হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩৩ বছর বয়সী এক পুরুষ রোগী, যিনি গত কয়েক মাস ধরে ক্রমাগত শ্বাসকষ্ট ও কাশিতে ভুগছিলেন।
Truth of Bengal: কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (এনআরএস) রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থায় এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করল। এই প্রথম কোনো সরকারি হাসপাতালে বিরল ও জটিল ফুসফুসজনিত রোগ ‘পালমোনারি অ্যালভিওলার প্রোটিনোসিস (PAP)’-এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত অত্যন্ত জটিল পদ্ধতি ‘হোল লাং ল্যাভেজ (WLL)’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই সাফল্য রাজ্যের উন্নত ইন্টারভেনশনাল পালমোনোলজির পথ প্রশস্ত করল। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩৩ বছর বয়সী এক পুরুষ রোগী, যিনি গত কয়েক মাস ধরে ক্রমাগত শ্বাসকষ্ট ও কাশিতে ভুগছিলেন। বিভিন্ন পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা দেখেন যে, রোগীর ফুসফুসের ক্ষুদ্র বায়ুথলিগুলো প্রোটিন জাতীয় পদার্থে ভরে গেছে। এর ফলে বায়ু চলাচল মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। ব্রঙ্কোঅ্যালভিওলার ল্যাভেজ (BAL) এবং ট্রান্সব্রঙ্কিয়াল লাং বায়োপসি (TBLB) রিপোর্টে রোগটি PAP হিসেবে নিশ্চিত হয়।
এই রোগের একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা হলো ‘হোল লাং ল্যাভেজ’, যা অত্যন্ত জটিল এবং দলগত নিখুঁত সমন্বয় ছাড়া সম্পন্ন করা অসম্ভব। এনআরএস হাসপাতালের পালমোনোলজি বিভাগ এবং কার্ডিওথোরাসিক ভাসকুলার অ্যানেস্থেশিয়া (CTVA) বিভাগ যৌথভাবে এই বিরল প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেছে। চিকিৎসকরা রোগীকে জেনারেল অ্যানেস্থেসিয়ার অধীনে রেখে ডাবল-লুমেন টিউব ব্যবহার করেন। এই টিউবের সাহায্যে রোগীর ডান ফুসফুসটি ১৫ লিটার গরম স্যালাইন দিয়ে ধোওয়া হয়। যতক্ষণ না ফুসফুস থেকে নির্গত তরল সম্পূর্ণ স্বচ্ছ হয়, ততক্ষণ এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে। এর মাধ্যমে ফুসফুসের বায়ুথলিগুলো কার্যকরভাবে ‘পরিষ্কার’ করা সম্ভব হয়। পুরো প্রক্রিয়া চলাকালীন রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। আগামী সপ্তাহে তাঁর বাঁ ফুসফুসের ল্যাভেজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই বিশাল সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে হাসপাতালের দুটি বিভাগের নেতৃত্ব এবং তাঁদের নিষ্ঠাবান দলগত প্রচেষ্টা। পালমোনোলজি বিভাগের অধ্যক্ষ ডা. জয়দীপ দেবের পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে চিকিৎসক দলটি এই বিরল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। সিটিভিএ বিভাগের অধ্যক্ষ ডা. শম্পা দত্তগুপ্ত নিখুঁত অ্যানেস্থেটিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রসিডিউরাল, অ্যানেস্থেসিয়া ও আইসিইউ টিমের নিরলস প্রচেষ্টা ও একাগ্রতা ছাড়া এই সাফল্য সম্ভব হত না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগী বর্তমানে স্থিতিশীল আছেন এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এনআরএস-এর এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সীমিত সম্পদের মধ্যেও উন্নতমানের চিকিৎসা প্রযুক্তি প্রয়োগ করা এবং দলগত দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তা দিয়ে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব।






