টাকা-কন্ডোমের পর অফিসে মিলল নিয়োগ তালিকা! চাকরি-দুর্নীতিতে জড়িত অনন্যা?
অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে মিলল খাম ভর্তি সুপারিশের তালিকা!
Truth of Bengal: বঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটতেই একের পর এক তৃণমূল নেতা-নেত্রীদের অফিস থেকে উদ্ধার হচ্ছে চাঞ্চল্যকর সব নথি ও সামগ্রী। এবার খোদ কলকাতা পুরসভার ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ananya Banerjee) মুকুন্দপুরের ওয়ার্ড অফিসকে কেন্দ্র করে তীব্র আলোড়ন ছড়াল রাজ্য রাজনীতিতে। সোমবারই ওই কার্যালয়ে আছড়ে পড়েছিল তীব্র জনরোষ। সেখান থেকে বাক্স ভর্তি কাঁচা টাকা, কন্ডোম এবং প্রোমোটারদের কাছ থেকে তোলা আদায়ের ‘রেটচার্ট’ উদ্ধার হওয়ার মারাত্মক অভিযোগ ওঠে। আর সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এবার আরও এক বিস্ফোরক বোমা ফাটাল বিজেপি (BJP) নেতৃত্ব। গেরুয়া শিবিরের দাবি, ওই ওয়ার্ড অফিস থেকেই উদ্ধার হয়েছে কলকাতা পুরসভায় (KMC) চাকরি দেওয়ার বেআইনি সুপারিশ ও নিয়োগের তালিকা!

খাম ভর্তি সুপারিশ, তৈরি হত অযোগ্যদের তালিকা!
স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, মুকুন্দপুরের ওই কার্যালয়টি থেকে বেশ কয়েকটি সিলমোহর দেওয়া খাম উদ্ধার করা হয়েছে। সেই খামগুলির ভেতরেই লুকিয়ে রাখা ছিল কলকাতা পুরসভার বিভিন্ন বিভাগে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার সুপারিশপত্র।

বিজেপির এক শীর্ষ নেতার অভিযোগ, এই পার্টি অফিসটিকে আসলে দুর্নীতির আঁতুড়ঘর বানানো হয়েছিল। এখানেই নিয়মিত গোপন বৈঠক ডেকে ঠিক করা হত পুরসভার কোন পদে কারা কাজ পাবে। কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি নির্দেশেই যোগ্যতা উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের পছন্দের অযোগ্য তৃণমূল ঘনিষ্ঠদের চাকরি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতির মতো কলকাতা পুরসভাতেও বড়সড় নিয়োগ কেলেঙ্কারি হয়েছে বলে বিস্তারিত তদন্তের দাবি তুলেছে পদ্ম শিবির।

“চাবি আমার কাছে নেই”, সাফাই কাউন্সিলরের
যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের পক্ষে সাফাই দিয়ে তিনি বলেন, “ওটা মূলত কলকাতা কর্পোরেশনের সরকারি অফিস। গত ৮ জুনের পর থেকে আমি আর ওই অফিসে যাইনি। এমনকি অফিসের চাবিও এখন আমার কাছে নেই। তবে পুরসভার অফিস হওয়ায় সেখানে কিছু ফাইল বা কাগজপত্র থাকাটাই অত্যন্ত স্বাভাবিক।”

“মানুষ বিচার করবে”, হুঁশিয়ারি রুদ্রনীল-রূপার
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রসঙ্গে সোমবারই সুর চড়িয়েছেন বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh)। তিনি স্পষ্ট জানান, “বঙ্গে নতুন সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। নিপীড়িত সাধারণ মানুষকে যাতে আর কষ্ট সহ্য করতে না হয়, সেই বন্দোবস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তৃণমূল নেতাদের এই সব নোংরা অত্যাচার আর চলবে না। এবার আইন এবং মানুষ নিজেই তাঁদের বিচার করবেন।”

অন্যদিকে, বিজেপি নেত্রী রূপা গাঙ্গুলিও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তৃণমূলের নেতানেত্রীদের বিরুদ্ধে যেভাবে ভুরি ভুরি দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে, তা দেখে একজন নাগরিক হিসেবে তাঁর অত্যন্ত খারাপ লাগছে।





