‘ইনশাল্লাহ, আজাদি বলা যাবে না!’, যাদবপুরকে ‘দেশবিরোধী তৈরির কারখানা’ বলে বি*স্ফোরক শর্বরী
রণাঙ্গন যাদবপুর! ক্যাম্পাসের লড়াই এবার রাস্তায়, বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের হুঙ্কারে তোলপাড়!
সত্যজিৎ বিশ্বাস: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ছাত্র সংঘর্ষের উত্তাপ এবার আছড়ে পড়ল কলকাতার রাস্তায়। বুধবার রাতের রক্তক্ষয়ী ক্যাম্পাসের পর বৃহস্পতিবার গোলপার্ক থেকে ৪ নম্বর গেট পর্যন্ত সুবিশাল প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। মিছিলে পা মিলিয়ে যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় চরম তোপ দেগে বলেন, “যাদবপুর দেশবিরোধী তৈরির কারখানা। ইনশাআল্লাহ বা আজাদির মতো দেশবিরোধী স্লোগান আর বরদাস্ত করা হবে না।” তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পরই তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে বাম ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা এক সাধারণ সভা (জিবি মিটিং) কেন্দ্র করে। এবিভিপির দাবি, ক্যাম্পাসে বর্তমানে কোনও বৈধ ছাত্র ইউনিয়ন নেই, তাই এমন বৈঠকের কোনও অধিকার বামেদের নেই। এই নিয়ে প্রতিবাদ জানালেই ৭০-৮০ জন বাম কর্মী তাঁদের ওপর চড়াও হয় এবং বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত হন। অন্যদিকে, এসএফআই ও ডিএসও-র পালটা অভিযোগ, এবিভিপি বাইরে থেকে গুন্ডা এনে হামলা চালিয়েছে এবং অরবিন্দ ভবনে পড়ুয়াদের আটকে বাইরে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো ভয়ানক কাজ করেছে।
এই চরম হিংসার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাস্তায় নামে বিশাল পুলিশ বাহিনী। ৮বি বাসস্ট্যান্ডে এসএফআই জমায়েত করার চেষ্টা করলেও এবিভিপির মিছিলের সুরক্ষার খাতিরে পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। তবে বামনেত্রী তথা শিক্ষিকা নন্দিনী মুখোপাধ্যায় বিজেপি বিধায়ককে সরাসরি কাঠগড়ায় তুলে প্রশ্ন করেন, “ছাত্রদের ঝামেলায় মধ্যস্থতা না করে বিধায়ক উসকানি দিয়েছেন। সরকারের কাছে জানতে চাই, এই আচরণের পর কার বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইন প্রয়োগ করা হবে?”
বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিয়ন না থাকা সত্ত্বেও কিসের ভিত্তিতে এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই বিতর্ক থেকে দূরত্ব বজায় রেখে জানান, এবিভিপি একটি স্বাধীন সংগঠন এবং আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি সম্পূর্ণ পুলিশমন্ত্রীর এক্তিয়ারভুক্ত। সব মিলিয়ে, উত্তপ্ত যাদবপুরে আপাতত থমথমে পরিবেশ বজায় রয়েছে।





