জুন মাসের শুরুতেই বড় ধাক্কা! এক লাফে দাম বাড়ল রান্নার গ্যাসের
জুনের প্রথম দিন থেকেই এই নতুন বর্ধিত দাম কার্যকর করা হয়েছে।
Truth of Bengal: নতুন মাসের শুরুতেই ফের এক ধাক্কায় বেশ খানিকটা বাড়ল বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম। লোকসভা ভোটপর্বের ঠিক পরপরই জ্বালানির দামের এই ঊর্ধ্বগতি নিয়ে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী মহলের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছিল। তারই মধ্যে ১ জুন থেকে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আরও ৫৩ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি। জুনের প্রথম দিন থেকেই এই নতুন বর্ধিত দাম কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে হোটেল, রেস্তরাঁ এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের দৈনিক খরচ এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এই দফায় সাধারণ মধ্যবিত্তের জন্য স্বস্তির খবর এটাই যে, গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত ১৪.২ কেজির রান্নার গ্যাসের দামে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি।
এই নতুন মূল্যবৃদ্ধির পর সোমবার থেকে কলকাতায় ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৫৫ টাকা ৫০ পয়সা। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যের অস্থিরতা এবং বিশ্বরাজনীতির চড়াই-উতরাইয়ের সরাসরি প্রভাব যাতে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের ওপর না পড়ে, সেই কারণেই গৃহস্থালির সিলিন্ডারের দাম আপাতত অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে বলে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে। সাধারণত প্রতি মাসের শুরুতেই আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি এবং ডলারের তুলনায় টাকার মূল্য খতিয়ে দেখে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম পুনর্নির্ধারণ করে তেল সংস্থাগুলি। বিশ্ববাজারের ওঠা-নামার ওপর ভিত্তি করে কখনও দাম বাড়ে, আবার কখনও তা কিছুটা কমে। তবে চলতি বছরের শুরু থেকেই বাণিজ্যিক গ্যাসের ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির এক টানা রেকর্ড ধারাই চোখে পড়ছে।
পরিসংখ্যানের দিকে নজর দিলে দেখা যাচ্ছে, ২০২৬ সালের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জানুয়ারি এক ধাক্কায় ১১১ টাকা বেড়েছিল বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম। এরপর ১ ফেব্রুয়ারি আরও ৪৯ টাকা দাম বাড়ানো হয়। মার্চ মাসেও সেই ধারা বজায় রেখে দাম বাড়ে ৩১ টাকা। এপ্রিল মাসে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত অস্থিরতার প্রভাবে এক লাফে ২১৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিল সিলিন্ডারের দাম। তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে মে মাসে, যখন এক ধাক্কায় প্রায় ৯৯৩ টাকা বেড়েছিল বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম। মে মাসের সেই রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির রেশ কাটতে না কাটতেই জুনের শুরুতেও সেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকল এবং দাম বাড়ল আরও ৫৩ টাকা ৫০ পয়সা।
যেহেতু হোটেল, রেস্তরাঁ, মিষ্টির দোকান, ক্যাটারিং সংস্থা এবং বিভিন্ন ছোট-বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে মূলত ১৯ কেজির এই সিলিন্ডারগুলিই ব্যবহার করা হয়, তাই এই ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব এবার পড়তে পারে বাইরের খাবারের দাম ও অন্যান্য পরিষেবা খরচের ওপর। ব্যবসায়ী মহলের একাংশের আশঙ্কা, রান্নার গ্যাসের এই বিপুল খরচ সামলাতে গেলে শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচের সেই বোঝা সাধারণ গ্রাহকদের পকেট কেটেই উশুল করতে হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম এখনও তুলনামূলকভাবে অনেকটাই উঁচুতে থাকায় জ্বালানি পণ্যের ওপর ক্রমাগত চাপ তৈরি হচ্ছে এবং সেই কারণেই বাণিজ্যিক গ্যাসের দামে ফের এই বৃদ্ধি। আগামী দিনে বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি কতটা স্বাভাবিক হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে এলপিজির দাম কমবে নাকি আরও বাড়বে।

