আর জি কর মামলায় সিবিআইয়ের নজরে তিন IPS, শুরু প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ
শুক্রবার তাঁদের কয়েক ঘণ্টা ধরে জেরা করা হয়
Truth of Bengal: আর জি করের অভিশপ্ত রাতের তদন্তে এবার সিবিআইয়ের নজরে তিন ‘দুঁদে’ আইপিএস আধিকারিক। প্রমাণ লোপাট, প্রকৃত অভিযুক্তদের আড়াল করা এবং ঘটনার পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইতিমধ্যেই তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং তৎকালীন ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা। শুক্রবার তাঁদের কয়েক ঘণ্টা ধরে জেরা করা হয়। সূত্রের খবর, তাঁদের কাছ থেকে বেশ কিছু নথিও সংগ্রহ করা হয়েছে। এই মামলায় তৎকালীন কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলকেও আগামী সপ্তাহে তলব করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। তিন আইপিএস আধিকারিকের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও নথি মিলিয়ে দেখবে সিবিআই। ঘটনার রাত থেকে দেহ সৎকার পর্যন্ত পুলিশের ভূমিকা কী ছিল, কার নির্দেশে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে নাইট শিফটে যান এক তরুণী চিকিৎসক। সেই রাতেই সেমিনার হল থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ ওঠে, তাঁকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। তদন্তে নেমে কলকাতা পুলিশ সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করে। পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে মামলার তদন্তভার নেয় সিবিআই।পরবর্তী সময়ে শিয়ালদহ আদালত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। কিন্তু এই তদন্তে সন্তুষ্ট নন নির্যাতিতার বাবা-মা। তাঁদের দাবি, এই ঘটনায় আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারে, যারা এখনও তদন্তের আড়ালে রয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নতুন করে আর জি কর মামলার ফাইল খুলেছেন।নতুন তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হতেই তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং তৎকালীন ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তাকে সাসপেন্ড করা হয়। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখতে চাইছেন, ঘটনার রাতে বা পরবর্তী সময়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কিংবা কোনও মন্ত্রীর তরফে ফোন বা মেসেজে কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কি না। সেই নির্দেশের ভিত্তিতে পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেছিল কি না, তাও দেখা হচ্ছে।
এর মধ্যেই সিবিআইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় যুগ্ম অধিকর্তার নেতৃত্বে তিন সদস্যের সিট গঠনের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। এই সিট ঘটনার রাত থেকে শেষকৃত্য পর্যন্ত গোটা ঘটনাক্রম নির্দিষ্টভাবে খতিয়ে দেখছে। হাসপাতাল থেকে দেহ বের করা, ময়নাতদন্ত, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দাহ প্রক্রিয়া—সব দিকই তদন্তের আওতায় রয়েছে। এই মামলায় ইতিমধ্যেই পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিবিআই। দাহ করার সময় ঠিক কী ঘটেছিল তা জানতে পানিহাটি শ্মশানের ইনচার্জ ভোলানাথ পাত্রকেও প্রায় ২০ মিনিট জেরা করেন তদন্তকারীরা। শ্মশান কর্তৃপক্ষের দাবি, বাবা-মায়ের সম্মতিতেই নির্যাতিতার দেহ দাহ করা হয়েছিল। তবে সেই দাবি এবং পরিবারের অভিযোগ মিলিয়ে দেখছে সিবিআই।






