রাজ্যের খবর

ফলতা কাণ্ডে নয়া মোড়! ধৃতদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে উসুল হবে ক্ষতিপূরণ, বিস্ফোরক শুভেন্দু

তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের ধারা প্রয়োগ করে কড়া শাস্তির নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

Truth of Bengal: ফলতা কাণ্ডে এবার আরও কড়া পদক্ষেপের পথে রাজ্য সরকার। পুলিশের তরফে ইতিমধ্যেই মোট তিনটি মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এবার ধৃতদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের ধারায় মামলা রুজু করে কঠোর শাস্তির নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু তাই নয়, হামলাকারীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিপূরণের টাকা আদায় করা হবে বলেও স্পষ্ট জানালেন তিনি। নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “১৬ তারিখে ফলতার ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। বিএনএসে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ সংক্রান্ত যে ধারাগুলি রয়েছে, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সেই ধারাতেই মামলা করা হয়েছে। শুধু দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নয়, হামলাকারীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিপূরণও আদায় করা হবে।”

শুভেন্দু অধিকারী জানান, ফলতার হামলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ২৫ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১২ জন পুলিশ হেফাজতে এবং ১৩ জন জেল হেফাজতে রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, তা খতিয়ে দেখে আরও অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হবে। যাঁদের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার ফলতায় ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গিরকে ছাড়াতে তাঁর স্ত্রীর নেতৃত্বে থানায় হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ ওঠে। ফলতার শতল কলসায় এলাকায় লাগাতার বিক্ষোভ চলছিল। এরপর জাহাঙ্গিরের অনুগামীরা ফলতা থানার দিকে এগোতে শুরু করে। পুলিশের সন্দেহ হয়, থানায় ঢুকে জাহাঙ্গিরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই দ্রুত অ্যাকশনে নামে পুলিশ ও বাহিনী।

বাহিনীর তাড়া খেয়ে পালানোর সময় হামলাকারীদের একাংশ পুকুরে ঝাঁপ দেয়। সেই ভিডিও মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিও দেখে অনেক অভিযুক্তকে চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফলতায় দাঁড়িয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলতার জনকল্যাণ শিবির থেকে শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, “ফলতায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এখানে গুণ্ডামি, জঙ্গিপনা, জমি লুট করতে দেব না। যত বড় মাফিয়া বা ডন হোক না কেন, রাজ্য সরকার সবক শেখাবে।” সেই কড়া নির্দেশের পরই ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ।