কলকাতা

দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস, উত্তরবঙ্গে লাল সতর্কতা জারি

১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস নেমেছে, বন্ধ হয়ে গেছে শিলিগুড়ি-দার্জিলিং যাওয়ার ৫৫ নম্বর জাতীয় সড়ক।

Truth Of Bengal: পুজো মিটে গেলেও রাজ্যের উপর থেকে দুর্যোগ কাটেনি। রাতভর বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সাক্ষী থেকেছে শহর কলকাতা। রবিবার সকালেও আকাশ ছিল ঘন মেঘে ঢাকা। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, রবিবার কলকাতায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গেও আগামীকাল পর্যন্ত মাঝারি বৃষ্টি চলবে বলে পূর্বাভাস মিলেছে।(Bengal Weather)

রবিবার কলকাতায় রয়েছে দুর্গাপুজোর কার্নিভাল। তাই অনেকেই চিন্তিত, বৃষ্টিতে এই উৎসব পণ্ড হয়ে যাবে কি না। যদিও আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আজ বিক্ষিপ্ত জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হলেও একটানা বা অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। ৭ অক্টোবর থেকে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানানো হয়েছে।(Bengal Weather)

অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির প্রকোপ আরও ভয়াবহ। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, দুই দিনাজপুর এবং মালদা জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু জেলায় ইতিমধ্যেই জারি হয়েছে লাল সতর্কতা। সোমবার আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। ৬ তারিখেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলবে। উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া ৭ তারিখ থেকে পরিবর্তিত হতে পারে।(Bengal Weather)

ভারী বৃষ্টির ফলে উত্তরবঙ্গে বিপর্যয়ের চেহারা নিয়েছে পরিস্থিতি। ধসের কারণে একাধিক রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। সিকিম যাওয়ার পথে দুধিয়া সেতু ভেঙে পড়েছে। ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস নেমেছে, বন্ধ হয়ে গেছে শিলিগুড়ি-দার্জিলিং যাওয়ার ৫৫ নম্বর জাতীয় সড়ক। ফলে পাহাড়ের সঙ্গে সমতলের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন।

তিস্তা বাজার সংলগ্ন এলাকা সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। চিত্রা ও শ্বেতিঝোরার মধ্যবর্তী বহু এলাকায় ধস দেখা দিয়েছে। রোহিনীর রাস্তার বড় অংশ ভেঙে পড়েছে। মহানন্দা নদীর পাড়ে বাঁধ ভেসে গেছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। তিস্তা বাজার ও রবিঝোরা এলাকায় নদীর জল উঠে এসেছে রাস্তায়।(Bengal Weather)

ধস সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে প্রশাসন। কিন্তু একটানা বৃষ্টির ফলে সেই কাজ ব্যাহত হচ্ছে। পুজোর সময় বেড়াতে গিয়ে পাহাড়ে আটকে পড়েছেন বহু পর্যটক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপরতা নেওয়া হয়েছে, তবে দুর্যোগ কমার অপেক্ষায় রয়েছে রাজ্যবাসী।

Related Articles