আর কিছুক্ষনের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গে ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী! ৬০-৭০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস
আগামী ২৪ ঘণ্টা মৎস্যজীবীদের জন্য জারি করা হয়েছে চরম নিষেধাজ্ঞা
Truth of Bengal: মে মাসের শেষলগ্নে এসে এক অদ্ভুত আবহাওয়ার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গ। দিনভর চড়া রোদ আর বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে হাঁসফাঁস করা ভ্যাপসা অস্বস্তি বজায় থাকলেও, বিকেলের পর থেকেই বদলে যেতে পারে চেনা ছবিটা। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলের পর থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ভিজতে পারে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলাও। উত্তাল সমুদ্রের কারণে আগামী ২৪ ঘণ্টা মৎস্যজীবীদের জন্য জারি করা হয়েছে চরম নিষেধাজ্ঞা।
মৌসম ভবন জানাচ্ছে, কেরালাতে এখনও বর্ষা বা দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু প্রবেশের নির্দিষ্ট আগাম পূর্বাভাস মেলেনি। তবে ভারতের মূল ভূখণ্ডে না ঢুকলেও বঙ্গোপসাগরে দ্রুত এগোচ্ছে বর্ষা। দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর ছাড়িয়ে ইতিমধ্যেই মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের কিছু অংশে পৌঁছে গিয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। এর পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড সংলগ্ন এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে অন্ধ্রপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে একটি অক্ষরেখা। এই জোড়া সিস্টেমের জেরেই মূলত সাগর থেকে হু হু করে ঢুকছে জলীয় বাষ্প, যা ঝড়-বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তনের জেরে পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর অত্যন্ত উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। সমুদ্রপৃষ্ঠে ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির কারণে মৎস্যজীবীদের আগামী ২৪ ঘণ্টা সমুদ্রে যাওয়ার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।
শুক্রবার বিকেলের পর দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কিছু কিছু এলাকায় তাণ্ডব চালাতে পারে কালবৈশাখী। দুই-এক জায়গায় ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার গতিবেগে কালবৈশাখী ঝড় ধেয়ে আসতে পারে। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া জেলাতে ঝড়ের তীব্রতা ও বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঝড়ের পাশাপাশি প্রবল বজ্রপাতের আশঙ্কা থাকায় সাধারণ মানুষকে এই সময়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, ঝড়-বৃষ্টির এই স্পেল এখনই পুরোপুরি থামছে না। শনিবারও দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে রবিবার থেকে ঝড়ের তীব্রতা কমবে এবং বৃষ্টির পরিমাণও ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে। তবে স্বস্তির দিন খুব বেশি স্থায়ী হবে না। জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ফের এক দফায় পারদ চড়তে শুরু করবে এবং তীব্র দাবদাহ বা গরম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় উত্তরবঙ্গে ঝড়-বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমবে। আগামী কয়েকদিন সেখানে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে এবং সঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার বিক্ষিপ্তভাবে উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে। রবিবার থেকে দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার— এই ৫ পাহাড়ি ও ডুয়ার্স সংলগ্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি জারি থাকলেও, ঝড়-বৃষ্টির তীব্রতা ক্রমশ কমতে থাকবে।






