কলকাতা

রাজ্যপালের বড় পদক্ষেপ, বাংলায় ভেঙে দেওয়া হল বিধানসভা, আনুষ্ঠানিকভাবে আর মুখ্যমন্ত্রী নন মমতা

আগামী ৯ মে নতুন সরকার শপথ গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব রাষ্ট্রপতি শাসনের অধীনেই থাকবে।

Truth of Bengal: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর এক অভূতপূর্ব সাংবিধানিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তৃতীয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের মেয়াদ ৭ মে উত্তীর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিয়ম মেনে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। রাজভবনের এই নির্দেশিকা জারির পর রাজ্যে আপাতত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়েছে। আগামী ৯ মে নতুন সরকার শপথ গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব রাষ্ট্রপতি শাসনের অধীনেই থাকবে।

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি ইস্তফা দেবেন না। ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হওয়ার পর তিনি গণনায় কারচুপির অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, বিজেপি এজেন্টদের বের করে দিয়ে ভোট লুট করেছে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তিনি রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করবেন না এবং রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলেও তাঁর কিছু করার নেই। তবে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁর আর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কোনো কার্যকারিতা অবশিষ্ট নেই।

সাধারণত নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর মুখ্যমন্ত্রী রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে থাকেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনড় অবস্থানের কারণে রাজ্যপাল তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিধানসভা ভঙ্গের বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়াল রাজ্যপালের এই নির্দেশিকা আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করেছেন। ফলে পদত্যাগ না করলেও কারিগরিভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন নন।

বিজেপি নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর আগামী ৯ মে নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। মাঝখানের এই দুই দিন রাজ্যে কোনো নির্বাচিত সরকার না থাকায় রাষ্ট্রপতি শাসনের ঘোষণা করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিনটিকে বাংলার ইতিহাসের কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে নতুন সরকার শপথ না নেওয়া পর্যন্ত নিয়ম মেনেই এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। নির্বাচনের এই নাটকীয় পটপরিবর্তন এবং সাংবিধানিক জটিলতা নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।

Related Articles