মমতার বাড়ির সামনের রাস্তা থেকে সরল পুলিশি ব্যারিকেড, অবাধে চলছে গাড়ি-বাইক
কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপ সরিয়ে সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হল তাঁর বাসভবনের সামনের রাস্তা।
Truth of Bengal: পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে। ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় এবং রাজ্যের ক্ষমতায় বিজেপির আসীন হওয়ার পর মঙ্গলবার সকাল থেকেই বদলে গেল তৃণমূল নেত্রীর বাড়ির সামনের চেনা ছবি। কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপ সরিয়ে সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো তাঁর বাসভবনের সামনের রাস্তা।
এতদিন নিরাপত্তার কারণে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের যে অংশে সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রিত ছিল, সেখান থেকে পুলিশি গার্ডরেল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে মঙ্গলবার সকাল থেকেই কোনো বাধা ছাড়াই সেই রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে বাইক ও চারচাকা গাড়ি। এক দশকেরও বেশি সময় পর এই রাস্তায় ফিরল স্বাভাবিক ছন্দ। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির ঠিক সামনে একটি ছোট পুলিশ ক্যাম্প এবং হাতেগোনা কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী এখনও রয়েছেন, তবে যাতায়াতের পথে আর কোনো কড়াকড়ি নেই।
প্রোটোকল অনুযায়ী, সরকার পরিবর্তনের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন থেকে বিধি মোতাবেক ন্যূনতম নিরাপত্তা পাবেন। সেই নিয়ম মেনেই পুলিশের পক্ষ থেকে বাড়তি গার্ডরেল ও ব্যারিকেড সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। এতদিন যে পথ দিয়ে যেতে সাধারণ মানুষকে অনেকটা ঘুরে যাতায়াত করতে হতো, এখন সরাসরি সেই রাস্তা ব্যবহারের সুযোগ পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরাও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
পাড়ার অন্দরে এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে ব্যানার ও পোস্টার চোখে পড়লেও, নিরাপত্তা বলয় শিথিল হওয়ায় সেখানে আমূল পরিবর্তন স্পষ্ট। এলাকার মানুষ এখন কোনো পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই নিশ্চিন্তে যাতায়াত করছেন। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, আগামী কয়েক দিনে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ের আরও পর্যালোচনা করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ১৫ বছর পর কালীঘাটের এই গলিতে নিরাপত্তার কড়াকড়ি উঠে যাওয়াকে রাজ্যের নতুন প্রশাসনিক অধ্যায়েরই এক ইঙ্গিত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।




