সোমবার থেকে শুরু শীতকালীন অধিবেশন, চলবে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত
বিরোধী শিবির থেকে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ, জয়রাম রমেশ, প্রমোদ তিওয়ারি, তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, আরজেডির মনোজ ঝা-সহ বিভিন্ন দলের ৫০ জন প্রতিনিধি।
Truth Of Bengal: সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। চলবে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ছুটির দিন বাদ দিলে মোট ১৫ দিন অধিবেশন চলবে। যা সাধারণত ২০ দিনের তুলনায় কম। এই সময়সীমা কমানোর বিরোধিতা করে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সংসদীয় গণতন্ত্র খর্ব করার অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দলগুলি। অধিবেশন শুরুর আগেই রবিবার সর্বদল বৈঠক ডাকা হয় কেন্দ্রের পক্ষ থেকে। উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপির জাতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা, সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অর্জুনরাম মেঘওয়াল। বিরোধী শিবির থেকে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ, জয়রাম রমেশ, প্রমোদ তিওয়ারি, তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, আরজেডির মনোজ ঝা-সহ বিভিন্ন দলের ৫০ জন প্রতিনিধি।
বৈঠকে কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ বলেন,দিল্লির বিস্ফোরণ প্রমাণ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ব্যর্থ। ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী ব্যবস্থার সুরক্ষা নিয়ে সংসদে বিশদ আলোচনা জরুরি।কংগ্রেসের আরও অভিযোগ, এসআইআর-এর মেয়াদ বাড়ানো নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়। তৃণমূল, সিপিএম, শিরোমণি আকালি দল–সহ অন্যান্য বিরোধী দলও সংসদে এসআইআর নিয়ে পূর্ণাঙ্গ বিতর্কের দাবি জানিয়েছে। সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে উপস্থিত থাকার জন্যও আর্জি জানিয়েছে বিরোধীরা।পরিস্থিতি সামলাতে কেন্দ্রের তরফে বিরোধীদের সহযোগিতা চাওয়া হয়।
সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, শীতকাল, তাই আশা করি সবাই ঠান্ডা মাথায় কাজ করবেন। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় এড়িয়ে গঠনমূলক বিতর্ক হবে। এতে দেশের উপকারই হবে। রিজিজুর দাবি, বৈঠকটি ইতিবাচক হয়েছে এবং কেন্দ্রের লক্ষ্য—বাধাহীন, শান্তিপূর্ণ অধিবেশন।এই অধিবেশনে মোট ১৪টি বিল পেশ করতে পারে কেন্দ্র। এর মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক শক্তি বিল, ২০২৫। যা পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগের পথ খুলে দেবে।উচ্চ শিক্ষা কমিশন বিল, ২০২৫। এই বিল বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসন ও মানোন্নয়নের লক্ষ্যে।
উল্লেখ্য, রবিবার সর্বদল বৈঠকে বিরোধীরা প্রধানত তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনার দাবি জানায়। সেগুলির মধ্যে রয়েছে বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) ও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া, দিল্লি বিস্ফোরণ ও দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দিল্লি–সহ বিভিন্ন রাজ্যে বায়ুদূষণ পরিস্থিতি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চলা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীরা সংসদে চাপ বাড়াতে প্রস্তুত। নির্বাচনী অখণ্ডতা, ভোটারের নিরাপত্তা ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এসব প্রশ্নে অধিবেশনে তীব্র আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।






