কলকাতা

রণক্ষেত্র SRFTII! বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের মিছিল ঘিরে উত্তেজনা, গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা

"রাষ্ট্রবাদীদের শক্তি বুঝিয়ে দিলাম!" এসআরএফটিআই-এর সামনে পাথরবৃষ্টি, আহত একাধিক বিক্ষোভকারী

Truth of Bengal: ভারতমাতা এবং স্বামী বিবেকানন্দের ছবি ছেঁড়ার প্রতিবাদে আয়োজিত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলকাতার স্বনামধন্য সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTII)। রবিবার অজয়নগর থেকে শুরু হওয়া ‘বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চ’-এর প্রতিবাদ মিছিল এসআরএফটিআই-এর মূল ফটকের সামনে পৌঁছানো মাত্রই পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা, দু’পক্ষের বোতল ও পাথরবৃষ্টি এবং ধস্তাধস্তিতে রক্তাক্ত হন প্রখ্যাত অধ্যাপক দেবাশিস সেনশর্মা-সহ একাধিক ব্যক্তি।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল গত রবিবার। এসআরএফটিআই-এর অডিটোরিয়ামে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতির এক নির্ধারিত অনুষ্ঠান ছিল। অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের এসএফআই (SFI) সমর্থিত পড়ুয়ারা ওই অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকে চরম গোলমাল পাকায় এবং ভারতমাতা ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবিতে তো ভাঙচুর চালানোই হয়, তা ছিঁড়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় ইট-পাথরবৃষ্টিতে এলাকা রণক্ষেত্রের রূপ নেয় এবং ৪টি পৃথক মামলা রুজু হয়। খোদ উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ সরকার কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছিলেন, ভারতমাতা কিংবা বিবেকানন্দের অসম্মানকারীরা কোনও পরিস্থিতিতেই ছাড় পাবেন না।

সেই ঘটনার ধারাবাহিকতায় রবিবার প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেয় বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। মিছিলটি ক্যাম্পাসের প্রধান গেটে পৌঁছাতেই উত্তেজিত বিক্ষোভকারীরা দরজা ধরে প্রচণ্ড ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। নিরাপত্তা বজায় রাখতে আগে থেকেই হেলমেট পরে গেটের ভেতরে জড়ো হয়েছিলেন প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়া ও অধ্যাপকেরা।

অভিযোগ, বাইরে থেকে বিক্ষোভকারীরা ভেতরের দিকে জলের বোতল ও ইট-পাথর ছুড়তে শুরু করে। বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে গুরুতর চোট পান অধ্যাপক দেবাশিস সেনশর্মা। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে দ্রুত হস্তাক্ষেপ করে বিশাল পুলিশ বাহিনী। বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে জোরপূর্বক সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

অন্যদিকে, বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের দাবি, ভেতর থেকে পড়ুয়া ও অধ্যাপকদের ছোড়া বোতলের ঘায়ে তাদের দলের একাধিক সমর্থকও আহত হয়েছেন। সংগঠনের সদস্যদের হুঙ্কার, “যারা ভারতমাতা ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবিতে লাথি মেরেছিল, আজ আমরা রাষ্ট্রবাদীদের আসল শক্তি বুঝিয়ে দিয়েছি।” সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

Related Articles