কলকাতা

এসআরএফটিআই-তে ৭ ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব-ভাঙচুর, পঞ্চসায়র থানায় ৪টি এফআইআর!

রবিবার রাতভর তাণ্ডবের পর সোমেও থমথমে এসআরএফটিআই! মোতায়েন বিশাল পুলিশবাহিনী, তোলপাড় কলকাতা

Truth of Bengal: টানা ৭-৮ ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, বেলাগাম ভাঙচুর ও নজিরবিহীন উত্তেজনার পর সোমবার সকাল থেকেও চরম থমথমে কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এখনও ক্যাম্পাস চত্বরে মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী। এই রণক্ষেত্রের ঘটনায় ইতিমেধ্যেই পঞ্চসায়র থানায় চারটি পৃথক এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। যার মধ্যে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে আরএসএস-এর শাখা সংগঠন অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতি, দ্বিতীয়টি দায়ের করেছে পড়ুয়াদের একাংশ, এবং পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে দুটি মামলা রুজু করেছে। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার বা আটক করা হয়নি।

ঘটনার সূত্রপাত রবিবার দুপুর একটা নাগাদ। অভিযোগ, ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতির একটি পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠান চলাকালীন বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই (SFI) সমর্থকরা চড়াও হয়। জাতীয়তাবাদী সংগঠনের অভিযোগ, কোনো কথা না শুনেই বাধার মুখে পড়ে এসএফআই সদস্যরা সেখানে থাকা ভারতমাতা ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবি, পোস্টার এবং ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

অন্যদিকে, পড়ুয়াদের দাবি, তাদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সরকারি অডিটোরিয়ামে আরএসএস-এর মতো উগ্র রাজনৈতিক সংগঠনকে অনুষ্ঠান করার বেআইনি অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ করতে গেলে আয়োজকরা তাঁদের ‘জঙ্গি’ ও ‘বাংলাদেশি’ বলে গালিগালাজ করে খোঁচা দেয়। তাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ক্যাম্পাসের ভেতরে একদিকে ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘জয় ভীম’ স্লোগান উঠতে থাকে, অন্যদিকে ওঠে ‘আজাদি’র সোচ্চার নারাজি।

খবর পেয়ে ইস্ট জোনের ডিসিপির নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাদের চোখের সামনেই দফায় দফায় নতুন করে হাতাহাতি শুরু হয়। অভিযোগ, সংঘর্ষ চলাকালীন বেশ কয়েকজনকে জামাকাপড় ছিঁড়ে অর্ধনগ্ন করে চরম মারধর করা হয়। বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম পড়ুয়াকে উদ্ধার করতে ক্যাম্পাসে পৌঁছানো অ্যাম্বুল্যান্সকেও বাধা দেওয়ার নজিরবিহীন অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ তাণ্ডবের পর জখমদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

সংগঠকদের তরফে পুলিশের বিরুদ্ধে চরম নিষ্ক্রিয়তা ও অসহযোগিতার অভিযোগ উঠলেও ডিসি (ইস্ট) স্পষ্ট জানান, “আইনের সীমার বাইরে গিয়ে পুলিশ কিছু করতে পারে না। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কড়া পদক্ষেপ করা হবে।” এই ন্যক্কারজনক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংঘর্ষ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রবিন্দু কলকাতার বুকে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল।

Related Articles