রাজ্যের খবর

পাণ্ডুয়ার পদ্ম পাড়ি দিচ্ছে হায়দরাবাদ-চেন্নাই-মুম্বই, পুজোর আগে কোটি টাকার ব্যবসা

আড়াই হাজার বিঘা জমিতে পদ্ম চাষ হয় এই অঞ্চলে

রাকেশ চক্রবর্তী, হুগলি: দূর্গা পুজোর পদ্ম যাচ্ছে হায়দ্রাবাদ,চেন্নাই মুম্বাই সহ বিভিন্ন রাজ্যে।পুজোর আগে কোটি টাকার উপর ব্যবসা হয় পাণ্ডুয়া খন্যানের তাম্বাগ্রামে। আড়াই হাজার বিঘা জমিতে পদ্ম চাষ হয় এই অঞ্চলে। শুধু পাণ্ডুয়া নয় পোলবা,বলাগড় থেকেও পদ্ম আসে এই বাজারে ।কলকাতার মল্লিক ঘাট ফুলের বাজার সহ বিভিন্ন রাজ্যে চাহিদা রয়েছে এই পদ্মের। দূর্গা পুজো উপলক্ষে হিম ঘরের মজুত রাখেন ব্যবসায়ীরা।প্রতিদিন চাষীদের কাছে পদ্ম কিনে ব্যবসায়ীরা বাজারে সাপ্লাই দেয়।যদি এবছর পদ্মের দাম নেই,আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলন কম।কৃষকদের আশা দূর্গা পুজোর সময় দাম বাড়লে কিছুটা লাভের মুখ দেখবে কৃষকরা।তবে সরকার কাছে দাবী বিকল্প পদ্ম চাষ সহ যোগিতা হাত বাড়িয়ে দিলে উপকার হবে কৃষকদের।

১২ বিঘা জমি চাষ করেন তাম্বার চাষী রাজেশ্বর বিশ্বাস বলেন,আবহাওয়ার কারণে পদ্মের ফলন হওয়ার কথা তা ঠিক হচ্ছে না।যা ফলন হচ্ছে এবছর খরচার টাকা উঠবে বলে মনে হচ্ছে না।প্রত্যেকের মনে আশঙ্কা রয়েছে।কৃষি দপ্তর ও সরকারের অনুরোধ পদ্ম চাষীদের দিকে নজর দিক। নতুন সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ ফুলের গাড়িগুলো ছেড়ে দেওয়ার জন্য। সরকার যদি এগিয়ে আসে তাহলে চাষিরা উপকৃত হবে। পদ্ম চাষী গুরুপদ মাঝি বলেন, ছয় বিঘা জমিতে আমি পদ্ম চাষ করি। এবছর সে ভাবে দাম নেই। আমাদের এখান থেকে লন্ডন হায়দ্রাবাদ মুম্বাই সহ বিভিন্ন জায়গায় যায়। ফুলের সমতুল্য দাম না পাওয়ায় চাষিরা লোকসানের মুখে পড়ছে। পদ্মের সরকারকে বলতে চাই চাষীদের ফুলের দামটা বাড়ে তার ব্যবস্থা করতে। পদ্ম ব্যবসায়ী মন্টু দেবনাথ বলেন, এখান থেকেই দিল্লি হায়দ্রাবাদ বোম্বে সহ একাধিক জায়গায় পদ্ম পাঠানো হয়। গনেশ চতুর্থীতে সেরকম বাজার হয়নি।আমার রাজ্যে সেরকম দাম নেই। দেড় টাকা দু টাকা বিক্রি হচ্ছে এখন।কোটি টাকার উপর ব্যবসা হয়।এবছর সেটা আশা নেই।চাষের দিকে সরকারের কোন মনোযোগ নেই।বেশি ভাগ নষ্ট জমিতে aচাষ করছি।এমনিতেই ধান আলুর দাম নেই। তার উপর পুলিশের অত্যাচার রয়েছে।কোন সরকার আমাদের সাহায্য করেনি। বর্তমান সরকার এগুলোতে দেখবে।আর্থিক সাহায্যের চেয়ে সহযোগিতা হাত বাড়ালে আমাদের সুবিধা হয়।

ব্যবসায়ী অরুন বিশ্বাস বলেন,পদ্মের বেশি চাষ হলেও ফলন কম এবছর।পাঁচ থেকে ছয় টাকার মধ্যে পদ্মের দাম থাকলে আমাদেরই খুব ভালো হয়। আমরা কলকাতা মল্লিক ঘাট বাজারে দিয়ে আসি সেখান থেকে বিভিন্ন রাজ্যে যায়। এই সরকারের কাছে আমাদের দাবি পদ্মের একটা দাম বেঁধে দিলে ভালো হয়। আমাদের এখানে ধানের চেয়েও পদ্মে প্রচুর শ্রমিক কাজ করে পেট চালাতে পারে। পান্ডুয়ার বিধায়ক তুষার মজুমদার বলেন, আগের থেকে এখন পদ্ম চাষ অনেক বেড়েছে, তাতে লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা। পদ্ম মূলত পুকুরেই হয়, এখন জমিতে চাষ হচ্ছে। ট্রান্সপোর্টের মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে এখানকার পদ্ম। পদ্মফুল সংরক্ষণের জন্য যদি হিমঘর তৈরি করা যায়, তার জন্যও আমরা চেষ্টা করব। আলুতে এবছর ভরাডুবি হয়েছে, সেটাও মুখ্যমন্ত্রী বিবেচনা করেছেন। সামনের বছর যাতে চাষিরা লাভের মুখ দেখেন, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।

Related Articles