কলকাতা

‘মেডিক্যাল রিপোর্ট ফাঁস হল কীভাবে?’ এসএসকেএম ও স্বাস্থ্য ভবনকে কড়া আইনি নোটিস মমতার

তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য কীভাবে প্রকাশ্যে এল, সেই প্রশ্ন তুলে এসএসকেএম হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য ভবনকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে

Truth of Bengal: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ের আঘাত নিয়ে ফের নতুন বিতর্ক। ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম পর্বের একটি মেডিক্যাল রিপোর্ট সম্প্রতি প্রকাশ্যে এনে সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই রিপোর্ট সংবাদমাধ্যমে দেখানো এবং তার ভিত্তিতে নতুন করে তদন্তের কথা ঘোষণা করা নিয়েই এবার আইনি পথে হাঁটলেন মমতা। তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য কীভাবে প্রকাশ্যে এল, সেই প্রশ্ন তুলে এসএসকেএম হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য ভবনকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। আইনি নোটিসে মূল যুক্তি, কোনও সরকারি সংস্থা বা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছে বৈধভাবে মেডিক্যাল রিপোর্ট থাকলেই তা প্রকাশ্যে আনার অধিকার তৈরি হয় না। কোনও নথি আইন মেনে সংগ্রহ করা এবং সেই নথি সাধারণ মানুষের সামনে প্রকাশ করা—দু’টি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।

মমতার আইনজীবীর দাবি, ভারতীয় সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের অধীনে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নাগরিকের মৌলিক অধিকারের অংশ। চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য সেই ব্যক্তিগত তথ্যের মধ্যে সবচেয়ে সংবেদনশীল ক্ষেত্রগুলির একটি। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হলেও সেই গোপনীয়তার অধিকার খর্ব হয় না বলেই নোটিসে যুক্তি দেওয়া হয়েছে।চিঠিতে Indian Medical Council-এর ২০০২ সালের Professional Conduct, Etiquette and Ethics Regulations-এরও উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখা চিকিৎসকের পেশাগত দায়িত্ব। নির্দিষ্ট আইনগত অনুমতি বা প্রয়োজন ছাড়া সেই তথ্য প্রকাশ করা উচিত নয়। এর আগে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের প্রচারপর্বে সাংবাদিক বৈঠক করে শুভেন্দু অধিকারী ২০২১ সালের ১১ মার্চের বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেসের একটি রেডিও-ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট সামনে আনেন। রিপোর্টের একটি অংশ দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, সেখানে ‘No evidence of fracture’ লেখা রয়েছে।

শুভেন্দু বলেন, “নন্দীগ্রামে আমি বলেছিলাম, ২০২১ সালে পুরো নন্দীগ্রামকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অপমান করেছিলেন। বলা হয়েছিল, ওঁর পা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।” এরপর তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সিআইডি তদন্ত চলছে এবং নির্বাচনী আচরণবিধি উঠে গেলে আরও তদন্ত হবে। মমতার আইনি নোটিস প্রসঙ্গে শুভেন্দুর পাল্টা বক্তব্য, ২০২১ সালে সাধারণ মানুষ মমতার বক্তব্য বিশ্বাস করেছিলেন, এখন নতুন তথ্য সামনে আসায় তিনি প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য ভবনই নোটিসের জবাব দেবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গণতান্ত্রিক তৃণমূল নেতা শান্তনু সেনও বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি নোটিস পাঠানোর অধিকার রয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী যখন সিআইডি তদন্তের কথা জানিয়েছেন, তখন তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা উচিত বলেই তাঁর মত। শান্তনু সেনও আগে মমতার পায়ের ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন।

Related Articles