কলকাতা

Maidan: ময়দানের ঘোড়াদের আর্তনাদ, কোথায় মানবিকতা?

যেখানে প্রতিদিন তাঁদের ৮থেকে ১০কিলো খাদ্যের প্রয়োজন হয়,সেখানে এঁদের মুখে জোটে না কোনও খাবার।

Truth of Bengal: রূপকথা থেকে বাস্তব,সর্বত্র ঘোড়ার  জৌলুস রয়েছে। রাজ আমল থেকেই রাজকীয় এই ঘড় দৌড়ের উল্লাস উপভোগ করে আমজনতা। যন্ত্রসভ্যতার যুগে এক্কা  গাড়ির চল কমেছে।কেউ কেউ বলেন,টমটম,জুরি,টাঙ্গা গাড়ি। উনিশ শতকে এই ঘোড়া গাড়ি চড়ে ঘুরে বেড়ানোর কালচার বাড়ে। কংক্রিটের জঙ্গলের বুকে সবুজ মখমলের মতো ঘাসে মোড়া  কলকাতার ময়দানে (Maidan) বরাবরই দৌড়ে বেড়ায় ঘোড়া। তিলোত্তমায় যাঁরা ঘুরতে আসে,  তাঁদের  বিনোদনের জন্য এই ঘোড়ার ব্যবহার হয়। সেই ঘোড়ার জীবন এখন অমলিন হতে বসেছে।ঘোড়ার পীঠে চড়ার নস্টালজিয়া এখনও ভুলতে পারেনি অনেকে।স্মৃতির স্মরণিতে যাঁরা দৌড়ে বেড়ায় তাঁরাই এখন জীবন সঙ্কটে।এমন অনেক ঘোড়া রয়েছে যাঁদের দেখলে আপনার চোখ ফেটে জল আসবে,বেদনায় কাতর মন। মোটা টাকা মুনাফার লোভে যাঁরা অবলা প্রাণীদের কারবারের রসদ হিসেবে ব্যবহার করছে তাঁদের কাণ্ড দেখলে আপনি শিউরে উঠবেন।

[আরও পড়ুনঃ Bandh Clash: বিজেপির ডাকা বন্ধে স্তব্ধ খেজুরি, পুলিশের সঙ্গে বচসা কর্মীদের]

কোনও ঘোড়ার পায়ের মালাই চাকি ভেঙে গেছে,হাঁটতে পারছে না,পায়ের একাংশ ক্ষতবিক্ষত হয়ে রক্ত ঝরছে। পেটে খেতে না পেয়ে হাড় জিরজিরে হয়েছে। কঙ্কালসার চেহারা তবুও সহিসের নির্দেশ পালন করতে হয়। যেখানে প্রতিদিন তাঁদের ৮থেকে ১০কিলো খাদ্যের প্রয়োজন হয়,সেখানে এঁদের মুখে জোটে না কোনও খাবার। ময়দানের ঘাস খেয়ে কোনওমতে জীবন যাপন করতে হয় এইসব প্রাণীদের। প্রাণের শহরের বুকে ঘটে যাওয়া সেই অমানবিক,নৃশংস অত্যাচারের ছবি ধরা  পড়ে বাংলা জাগোর ক্যামেরায়। দেখা যায়,চতুর্ষ্পদ প্রাণীর কেউ কেউ পা নিয়ে চলতে পারছে না,কেউ আবার পিঠের ক্ষত দাগ নিয়েই জীবন পাত করে দিচ্ছে। (Maidan)

[লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal]

লকডাউনের সময় সমাজসেবী সংস্থাগুলো বাড়িয়ে দিয়েছিল হাত।দেওয়া হয় ঘোড়াদের খাবার,কিন্তু তারপর এইসব ঘোড়াদের পর্যাপ্ত খাবার দেওয়ার দায়িত্ব ছিল ঘোড়ার মালিকদের।কিন্তু তাঁরা কোনও কেয়ার করে না।টাকা রোজগার হওয়ার পর দায় ঝেড়ে ফেলে ঘোড়ার মালিক বা মালকিনরা।

খাদ্যভাব ও পুষ্টিহীনতার জন্য পাজরের হাড় বেরিয়ে এসেছে। কিছু ঘোড়ার শরীরে আবার পোকা বাসা বেঁধেছে, কোনটির চোখ দিয়ে ঝড়ছে জল। এ যেন নির্বাক প্রাণীদের জীবনের চাপা আর্তনাদ, ধুঁকছে ঐতিহ্যের নির্দশন।স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো চায় মুম্বইয়ের মতোই বাংলাতেও প্রাণী পালনের বিধি তৈরি হোক।দেওয়া হোক ঘোড় প্রতিপালনের প্রশিক্ষণ,যাতে  রোগাক্রান্ত ঘোড়াদের চিকিৎসা বা পুনর্বাসনের উপযুক্ত ব্যবস্থা হয়।আসুন মানবিক কলকাতার মুখ রক্ষা করতে এইসব প্রাণীদের স্বস্তি দিতে প্রশাসনের পাশে দাঁড়াই।যাতে আর একটিও ঘোড়া সমস্যার মুখে না পড়ে। (Maidan)

 

 

Related Articles