কলকাতা

বিধ্বংসী আগুন আনন্দলোক হাসপাতালে! কালো ধোঁয়ায় ঢাকল আকাশ, প্রাণ বাঁচাতে রোগীদের নিয়ে হুড়োহুড়ি

স্ট্রেচারে করে রোগীদের উদ্ধার! ৭৫ জন রোগীকে তড়িঘড়ি সরানো হল পাশের ভবনে

Truth of Bengal: মঙ্গলবার সকালে বিধাননগরের সল্টলেক করুণাময়ী সংলগ্ন আনন্দলোক হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে চরম আতঙ্ক ছড়াল এলাকায়। হাসপাতালের দ্বিতল থেকে গলগল করে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখে পথচারীরাই প্রথম চিৎকার শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা অপারেশন থিয়েটারের একাংশ গ্রাস করে নেয়। প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন রোগী ও তাঁদের পরিজনেরা। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের দুটি ইঞ্জিন।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এসি-র শর্ট সার্কিট থেকেই এই বিপত্তি ঘটেছে। হাসপাতালের দ্বিতলে ধোঁয়া দেখা মাত্রই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রোগীদের উদ্ধারের কাজ শুরু করেন হাসপাতালের কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হওয়ার পরিস্থিতির মধ্যেই স্ট্রেচারে করে রোগীদের বার করে আনা হয়। জানা গিয়েছে, অপারেশন থিয়েটার ও আইসিইউ-র কাছাকাছি আগুন লাগায় ঝুঁকি আরও বেড়ে গিয়েছিল। তবে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর মেলেনি।

হাসপাতালের কর্মীদের দাবি, প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ জন রোগীকে সুরক্ষিতভাবে উদ্ধার করে আনন্দলোকেরই অন্য একটি ভবনে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হাসপাতালের কর্মী ডলি রায় বলেন, “পুরো ভবনের দোতলা ও তিনতলায় যত রোগী ছিলেন, তাঁদের আমরা নিরাপদে সরিয়েছি। সব মিলিয়ে প্রায় ৭৫ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। রোগীরা আপাতত সুরক্ষিত আছেন।” আর এক কর্মীর কথায়, ধোঁয়ায় চারদিক অন্ধকার হয়ে গেলেও কেউ ভেতরে আটকে নেই তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

সকাল ১১টা নাগাদ দমকলের চেষ্টায় আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ভরপুর হাসপাতাল ভবনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিকঠাক কাজ করেছিল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হাসপাতালের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া না হলেও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ফরেন্সিক দল এসে খতিয়ে দেখবে আগুনের উৎসস্থল। ভোটের মরশুমে সল্টলেকের মতো জনবহুল এলাকার একটি হাসপাতালে এই অগ্নিকাণ্ড স্বাভাবিকভাবেই কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে প্রশাসনের।

Related Articles