নাগরিক পরিষেবা থেকে প্রশাসনিক সুবিধার জন্যই ‘কলকাতা জেলা’ গঠনের সিদ্ধান্ত রাজ্যের
প্রশাসনিক পরিষেবাকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ এবং নাগরিকবান্ধব করে তুলতে কলকাতাকে পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য
Truth of Bengal: কলকাতা। এক সময় ভারতবর্ষের রাজধানী। এরপর ১৯১১ সালে প্রথম ভারতীয় দল হিসাবে মোহনবাগান আইএফএ শিল্ড জিতলেও দেশের রাজধানী পরিবর্তন হয়ে যায়। রাজধানী চলে যায় কলকাতা থেকে দিল্লি। জাতীয় পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী হিসেবে কলকাতাযকে সবাই চেনে। সেই কলকাতা পূর্ণ জেলার রূপ পেতে চলেছে।ঐতিহাসিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পথে রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক পরিষেবাকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ এবং নাগরিকবান্ধব করে তুলতে কলকাতাকে পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। নবান্ন সূত্রে খবর, বিধানসভায় বাজেট পাশ হওয়ার পর খুব শীঘ্রই রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি অনুমোদন করে কলকাতা জেলা গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে প্রথমবারের মতো কলকাতায় একজন জেলাশাসক নিয়োগ করা হবে। এতদিন কলকাতার প্রশাসনিক কাজের বড় অংশ কলকাতা পুরসভার কমিশনারের অধীনে থাকলেও এবার নাগরিক পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে আলাদা প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে উঠবে।

নবান্নের শীর্ষ আধিকারিক এর মতে, দ্রুত সরকারি পরিষেবা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং প্রশাসনিক কাজের চাপ ভাগ করে নেওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ।বর্তমানে কলকাতা পুরসভার কমিশনারের উপর বিপুল প্রশাসনিক দায়িত্ব রয়েছে। নতুন ব্যবস্থা চালু হলে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন, রাজস্ব সংক্রান্ত কাজ, ভূমি প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা এবং সমন্বয়ের দায়িত্বের বড় অংশ জেলাশাসকের অধীনে চলে যাবে। ফলে কলকাতা পুরসভার কমিশনারের কাজের চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। নতুন ব্যবস্থার ফলে নির্বাচনের সময় আর আলাদা করে কলকাতা উত্তর কিংবা কলকাতা দক্ষিণ জেলার জন্য পৃথক ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার নিয়োগের প্রয়োজন হবে না।

কলকাতার জেলাশাসকের নেতৃত্বেই ভবিষ্যতে শহরের সমস্ত লোকসভা ও বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব সম্পন্ন হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।তবে প্রশাসনিক পুনর্গঠনের এই সিদ্ধান্তে কলকাতা পুলিশের ক্ষমতা কমানো হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, বিভিন্ন বিশেষ পরিস্থিতিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৩ ধারা প্রয়োগ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুলিশ প্রশাসনের যাবতীয় ক্ষমতা আগের মতোই কলকাতা পুলিশের পুলিশ কমিশনারের কাছেই থাকবে।অর্থাৎ, প্রশাসনিক পরিষেবা ও নাগরিক সুবিধা সংক্রান্ত বিষয় দেখবেন জেলাশাসক, আর আইনশৃঙ্খলার সম্পূর্ণ দায়িত্ব থাকবে পুলিশ কমিশনারের হাতেই।কলকাতা পুরসভার কমিশনার বা প্রশাসকের ক্ষমতাও বহাল থাকছে। নিকাশি ব্যবস্থা, জঞ্জাল অপসারণ, রাস্তা-ঘাটের দৈনন্দিন রক্ষণাবেক্ষণ, স্বাস্থ্য ও সাফাই সংক্রান্ত পরিষেবা-সহ কলকাতা পুরসভার সমস্ত দৈনন্দিন কাজ আগের মতোই পুর প্রশাসনের অধীনেই থাকবে। রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে নিয়মমাফিক পাস হবে কলকাতা কে পূর্ণমাত্রায় জেলা করার বিষয়টি।





