Jadavpur University: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের মৃত্যু, ক্যাম্পাসের ঝিল থেকে উদ্ধার তৃতীয় বর্ষের ছাত্রীর দেহ
সূত্রের খবর, বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রামা ক্লাবের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার রাতে পার্কিং লটে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। ওই অনুষ্ঠানেই অংশ নিতে এসেছিলেন উত্তর কলকাতার নিমতা এলাকার বাসিন্দা, তৃতীয় বর্ষের ওই ছাত্রী।
Truth of Bengal: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্কিং লটের পাশে ঝিল থেকে উদ্ধার হয়েছে এক তৃতীয় বর্ষের ছাত্রীর নিথর দেহ। বৃহস্পতিবার রাতের এই ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অনুষ্ঠান চলাকালীন নজরদারির অভাব। সূত্রের খবর, বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রামা ক্লাবের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার রাতে পার্কিং লটে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। ওই অনুষ্ঠানেই অংশ নিতে এসেছিলেন উত্তর কলকাতার নিমতা এলাকার বাসিন্দা, তৃতীয় বর্ষের ওই ছাত্রী। মৃতার নাম অনামিকা মণ্ডল। রাত প্রায় ৯টা ৫৫ মিনিট নাগাদ তিনি শৌচালয়ে যাওয়ার কথা বলে উঠেছিলেন। এরপরই নিখোঁজ হয়ে যান (Jadavpur University)।
আরও পড়ুনঃ উপরাষ্ট্রপতি পদে শপথ নিলেন সিপি রাধাকৃষ্ণণ, উপস্থিত ছিলেন ধনখড়
পরে, পার্কিং লটের উল্টো দিকে থাকা একটি গভীর ঝিল থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। প্রায় ১০ মিনিট জলে ভাসার পর তাঁর নিথর দেহ জল থেকে তোলা হয়। সেসময় উপস্থিত বন্ধুরা প্রাথমিকভাবে তাঁকে সুস্থ করার চেষ্টা চালান। এরপর তাঁকে দ্রুত কেপিসি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু রাত ১০টা ২৬ মিনিট নাগাদ হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই মৃত্যু হয় তাঁর।ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানিয়েছে, ওই রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে একটি মদের আসর বসেছিল বলে প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। ঘটনাস্থলের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে মদের বোতল। তদন্তকারীদের সন্দেহ, মৃতা ছাত্রী এবং তাঁর বন্ধুরা ঝিলপাড়েই বসে মদ্যপান করছিলেন। মৃতার কয়েকজন বন্ধু পুলিশের জেরায় জানিয়েছেন, ছাত্রীটি সাঁতার না জানলেও মদ্যপ অবস্থায় জলে নেমে পড়েন। বন্ধুরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও ততক্ষণে দেরি হয়ে যায় (Jadavpur University)।
Truth of Bengal fb page: https://www.facebook.com/share/1GbdnH1jqc/
তবে তদন্তে অন্য দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধুমাত্র দুর্ঘটনা, নাকি মদের আসরে কোনও বচসা, কিংবা নিছক মজার ছলে কেউ তাঁকে জলে ঠেলে দিয়েছিল? – এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বন্ধুবান্ধবদের জেরা চালাচ্ছে পুলিশ। শুক্রবার কাঁটাপুকুর মর্গে ময়নাতদন্ত করা হবে ছাত্রীটির দেহের। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে তদন্তকারী সংস্থা। আপাতত অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে তীব্র প্রশ্ন। এত বড় একটি অনুষ্ঠান চলাকালীন কেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছিল না, কেন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে গভীর ঝিলগুলির পাশে কোনও সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না— তা নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে পড়ুয়া ও অভিভাবকমহলে। অভিযোগ, অনুষ্ঠান চলাকালীন বড় লাইটগুলি নিভিয়ে রাখা হয়েছিল এবং লাউডস্পিকারের শব্দ এতটাই জোরে ছিল যে, কেউ ছাত্রীর আর্তনাদ শুনতে পাননি। এমনকি, সিসিটিভির মুখ বাইরের দিকে থাকায় কোনও ফুটেজও মেলেনি (Jadavpur University)।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা গেটের পাশেই ঘটেছে এই ঘটনা। তাহলে নিরাপত্তার নজরদারি কোথায় ছিল? আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল গোটা ক্যাম্পাসে সিসিটিভি বসানো হবে। কিন্তু এতদিনেও তার বাস্তবায়ন হয়নি। প্রশ্ন উঠছে, পড়ুয়াদের চাপের মুখে কি আদৌ কর্তৃপক্ষ গা ছাড়া মনোভাব নিচ্ছে? যাঁরা ঝিল থেকে ছাত্রীকে উদ্ধার করেছিলেন, তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। উদ্ধারের সময় তাঁর শারীরিক অবস্থা কেমন ছিল, তাঁকে কেউ পড়ে যেতে দেখেছিলেন কি না, কিংবা তাঁর সঙ্গে কেউ ছিলেন কি না— এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তৎপর তদন্তকারীরা (Jadavpur University)।






