মঞ্চ নেই, নেই কোনও বড় ভাষণ! ভবানীপুরের ঘরে ঘরে হাজির ‘দিদি’
ভোটের আবহে খাসতালুকে মমতা-ম্যাজিক! সেক্সপিয়র সরণির আবাসনে ঢুকে জনসংযোগ সারলেন তৃণমূল নেত্রী।
Truth of Bengal: ভোটের ময়দানে তিনি দাপুটে জননেত্রী, যাঁর এক ডাকে লাখো মানুষের ভিড় জমে। কিন্তু নিজের খাসতালুক ভবানীপুরে সেই চেনা মেজাজ বদলে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবতারে ধরা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোনও বিশাল মঞ্চ বা চড়া সুরের ভাষণ নয়, বরং পাড়ার ‘দিদি’ হয়েই মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেলেন তিনি। লর্ড সিনহা রোড থেকে সেক্সপিয়র সরণি, সোমবার ভবানীপুরের হাইরাইজ আর আবাসনে আবাসনে মমতার এই ‘ডোর টু ডোর’ ক্যাম্পেন দেখে কার্যত চমকে গিয়েছে রাজনৈতিক মহল।
এদিন বেলেঘাটায় তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষের সমর্থনে সভা সেরে সোজা নিজের কেন্দ্রে পৌঁছান মমতা। সেক্সপিয়র সরণি থানার উলটোদিকে কোনও বড় মঞ্চ ছাড়াই একফালি জায়গায় দাঁড়িয়ে জনসংযোগ সারেন তিনি। এরপরই শুরু হয় তাঁর ঝটিকা সফর। ‘গঙ্গা-যমুনা’র মতো বড় আবাসনগুলোতে ঢুকে বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি। গত ১৫ বছরে কলকাতার আমূল পরিবর্তন এবং ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে তাঁর করা কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন ভোটারদের সামনে। মমতার কথায়, “সবাইকে একসঙ্গে মিলেমিশে থাকতে হবে। আমরা উন্নয়ন করেছি, আর আগামী দিনে আপনাদের সুবিধার্থে আরও কাজ করতে চাই।”
ভবানীপুরের ভোটারদের সঙ্গে নেত্রীর এই আলাপচারিতা ছিল একেবারেই ঘরোয়া। এলাকার পানীয় জল থেকে শুরু করে পরিকাঠামো, নাগরিক পরিষেবার খুঁটিনাটি নিয়ে বাসিন্দাদের অভিযোগ ও অনুযোগ মন দিয়ে শোনেন মমতা। এমনকি আগামী দিনে সরকার গড়লে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে তাঁর কী কী পরিকল্পনা রয়েছে, তাও খোলামেলা আলোচনা করেন। ডোর-টু-ডোর প্রচারের এই কৌশল আসলে সাধারণ মানুষের ‘আস্থা’ আরও মজবুত করারই এক বড় চাল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
রবিবার লেডিস পার্কে স্থানীয়দের সঙ্গে বৈঠকের পর সোমবারের এই হাইরাইজ অভিযান, ভবানীপুর ঘিরে মমতার রণকৌশল যে এবার একদম আলাদা, তা স্পষ্ট। নিজের কেন্দ্রকে হাতের তালুর মতো চেনেন বিধায়ক মমতা, তাই ভোটের আগে বড় সভার চেয়েও মানুষের দুয়ারে পৌঁছে যাওয়াকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। প্রচারের শেষবেলায় নেত্রীর এই ‘ভিন্ন মেজাজ’ বিরোধী শিবিরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।





