কলকাতা

নন্দীগ্রাম ভোটের মুখে স্বস্তি কংগ্রেস প্রার্থীর! ৬ মামলার জট কাটাল কলকাতা হাইকোর্ট

রাজ্যের তরফে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জানান, মিলনের বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা ছিল

Truth of Bengal: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে কিছুটা স্বস্তি পেলেন জেলবন্দি কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা পুরনো মামলাগুলিতে নতুন করে গ্রেপ্তারির আশঙ্কা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানিতে রাজ্য জানায়, যে ছ’টি মামলায় মিলন রক্ষাকবচ চেয়েছিলেন, তার মধ্যে পাঁচটি আগেই প্রত্যাহার হয়েছে এবং বাকি একটিতে তিনি অভিযুক্ত নন। ফলে আপাতত ওই মামলাগুলি নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন কোনও পদক্ষেপের প্রশ্ন নেই।বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে শুনানির সময় মিলনের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়কার মামলাগুলির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এত বছর পরে, উপনির্বাচনের ঠিক আগে কেন কার্যকর করা হল। আগামী ৬ অক্টোবর ভোট এবং ৪ অক্টোবর প্রচারের শেষ দিন—এই সময় মিলন জেলবন্দি থাকায় তাঁর প্রচারের সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলেও আদালতে দাবি করা হয়।

রাজ্যের তরফে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জানান, মিলনের বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা ছিল। তার মধ্যে পাঁচটিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অবশিষ্ট ছটির মধ্যে পাঁচটি আগের সরকার প্রত্যাহার করেছিল এবং আর একটি মামলায় মিলন অভিযুক্ত নন। রাজ্যের আরও বক্তব্য, পুরনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার প্রক্রিয়া নির্বাচনের সময় নিয়মমাফিকই করা হয়েছে। শুনানির সময় আদালত মৌখিকভাবে মন্তব্য করে, জামিন পেলে মিলনকে ভোটে লড়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে নতুন কোনও পদক্ষেপ না করার কথাও জানায় বেঞ্চ। মামলাটি ফের ১২ অক্টোবর শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

মিলন প্রধান বর্তমানে পাঁচটি মামলায় বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের সময়কার ওই মামলাগুলিতে খুন, খুনের চেষ্টা, অপহরণ, প্রমাণ লোপাট এবং অস্ত্র-সহ দাঙ্গার মতো অভিযোগ রয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর প্রথম তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়, পরে আরও চারটি মামলায় তাঁকে ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হয়। আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ রয়েছে। ফলে এখন মূল নজর তাঁর জামিনের আবেদনের দিকে। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলিতে জামিন মিললে ৬ অক্টোবরের ভোটের আগে জেল থেকে বেরোনোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট আদালতের উপর।

Related Articles