এশিয়ান গেমসে ভারতের প্রথম সোনা! শ্রীলঙ্কাকে দুমড়ে-মুচড়ে ইতিহাস গড়লেন হরমনপ্রীতরা
২২ বলে ৪৯ রানের তাণ্ডব বঙ্গকন্যা রিচার! ফাইনালে প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে সোনা জয় ভারতের
Truth of Bengal: গতবারের সোনাজয়ী খেতাব ধরে রাখার প্রবল চাপ আর বিশ্বমঞ্চে কোটি কোটি ভারতবাসীর প্রত্যাশা, সমস্ত কিছুকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে এশিয়ান গেমসের মেগা ফাইনালে সোনা জিতল ভারতের মহিলা ক্রিকেট দল। প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই প্রতিপক্ষ দলগুলিকে মাঠের মধ্যে কার্যত দুরমুশ করে এসেছে প্রমীলা ব্রিগেড। ফলে ফাইনালেও ভারত সোনা জিতবে, তা একপ্রকার নিশ্চিতই ধরে নিয়েছিলেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। চলতি এশিয়ান গেমসের প্রথম দুই দিনে ভারতের ঘরে চার-চারটি রুপো এলেও কাঙ্ক্ষিত সোনার দেখা মিলছিল না। অবশেষে দেশের সেই বহু প্রতীক্ষিত প্রথম সোনাটি এনে দিলেন হরমনপ্রীত কউর, স্মৃতি মান্ধানা ও বঙ্গকন্যা রিচা ঘোষরা। ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে একেবারে কচুকাটা করে সোনার পদকে নিজেদের নাম খোদাই করল লাল-হলুদ জার্সিধারীরা।
করোগি স্পোর্টস পার্কে টস জিতে কোনও দ্বিধা না রেখে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় অধিনায়ক হরমনপ্রীত কউর। গত দুই ম্যাচে ওপেনিংয়ে নামেননি দলের ভরসাযোগ্য তারকা ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা। তবে সোনা জয়ের মহাযুদ্ধে তিনি মাঠে নেমেই বিধ্বংসী মেজাজে থাকা শেফালি ভার্মার সঙ্গে ইনিংসের সূচনা করেন। শ্রীলঙ্কান বোলারদের দিশেহারা করে প্রথম ১০ ওভারেই ৯৯ রানের পাহাড়প্রমাণ জুটি গড়েন এই দুই ভারতীয় ওপেনার। মারমুখী ভঙ্গিতে দ্রুত গতিতে রান তুলতে গিয়ে দুর্ভাগ্যবশত হাফসেঞ্চুরি হাতছাড়া হয় শেফালির; ৪৫ বলে ৮টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৪৮ রান করে আউট হন তিনি। অন্যদিকে ক্রিজে জেঁকে বসে লঙ্কান বোলিং অ্যাক্রমণকে গুঁড়িয়ে দেন স্মৃতি মান্ধানা। ৪৫ বলে দুর্দান্ত ৭৯ রানের এক রাজকীয় ইনিংস উপহার দেন তিনি।
ইনিংসের শেষভাগে ব্যাট হাতে চরম তাণ্ডব চালান বাংলার গর্ব রিচা ঘোষ। শ্রীলঙ্কান বোলারদের বেধড়ক পিটিয়ে মাত্র ২২ বলে ৪৯ রানের এক অবিশ্বাস্য ক্যামিও ইনিংস খেলেন রিচা। তাঁর এই ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করেই নির্ধারিত ২০ ওভারে ভারতের রান ২০০০ পার করে ২১৫ রানে পৌঁছায়।
শ্রীলঙ্কার সামনে জয়ের জন্য ২১৬ রানের পাহাড়সমান লক্ষ্য খাড়া করে দেয় ভারত। ওই রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ব্যাকফুটে চলে যায় লঙ্কান ব্যাটাররা। লঙ্কান অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু ২১ বলে ২৯ রানের এক লড়াকু ইনিংস খেললেও দলের পরাজয় এড়াতে তা যথেষ্ট ছিল না। ভারতীয় স্পিনাররা আক্রমণে আসতেই শ্রীলঙ্কার মিডল অর্ডার খাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। দলের আর কোনও ব্যাটারই ১৫ রানের গণ্ডি অতিক্রম করতে পারেননি। ভারতের সুনিয়ন্ত্রিত বোলিং ও নিখুঁত ফিল্ডিংয়ের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে শ্রীলঙ্কা। শেষপর্যন্ত বিশাল ব্যবধানে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে সোনার মেডেল গলায় ঝোলাল ভারতের অদম্য নারীবাহিনী।






